১৩ মার্চ ২০২৬

গরু চুরির অভিযোগে কারান্তরীণ সেই মা-মেয়ের জামিন

কক্সবাজার প্রতিনিধি »

গরু চুরির অভিযোগে কারান্তরিণ মা-মেয়ের জামিন মনঞ্জুর করেছে আদালত। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাজীব কুমার দেব তাদের জামিন মনজুর করেন। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন বহাল থাকবে বলে উল্লেখ করে আদালত। এ তথ্য জানিয়েছেন চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক।

জামিন প্রাপ্তরা হলেন, পটিয়ার শান্তিরহাট কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আবুল কালামের স্ত্রী পারভিন আক্তার (৫৫), তার দুই মেয়ে সেলিনা আক্তার সেলী (২৫) ও রোজিনা আক্তার (২০)। অপর দুই আসামীর জামিন হয়নি।

অপর দিকে, গরু চুরির অভিযোগে মা-মেয়েকে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছেন চকরিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারকে ৭ কার্য দিবসের মধ্যে মামলার বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন বিচারক রাজিব কুমার দেব।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ শামসুল তাবরীজ সনেট, চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মো. মতিউল ইসলাম ও চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান। এ সময় তারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা শোনেন।

একই ঘটনায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় হতে পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কমিটিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালককে প্রধান করা হয়েছে।

চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মো. মতিউল ইসলাম জানান, চকরিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে হারাবাংয়ের ভাইরাল হওয়া ঘটনায় জনস্বার্থে একটি মামলা নিয়েছেন। মামলাটি (চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারকে) ৭ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালতের উক্ত নির্দেশনাপত্রটি হাতে পেয়েছি।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের চকরিয়ায় ‘গরু চুরির অপরাধে’ বয়স্ক মা ও তরুণী দুই মেয়েকে রশিতে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয় শুক্রবার দুপুরে। ‘গরু চোর’ আখ্যা দিয়ে মা-মেয়েকে নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে কোমরে রশি বেঁধে মা-মেয়ে তিনজনকে প্রকাশ্য সড়কে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে। সেখানে চেয়ারম্যান নিজেও তাদের আবার প্রহার করেন বলে অভিযোগ উঠে। একপর্যায়ে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশকে খবর দিয়ে বিপদাপন্ন মা-মেয়ে ও ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। পুলিশ তাদের চকরিয়া হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেন।

গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজারের সীমান্ত চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের পহরচাঁদা এলাকায় ঘটা এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি প্রকাশের পর শনিবার রাতে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর থেকে নিন্দার ঝড় উঠে সবখানে। শুক্রবার রাতেই হারবাং বিন্দাবনখীল লালব্রীজ মাহবুবুল হক নামের একজন বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় একটি গরু চুরির মামলা দায়ের করেছেন (নম্বর-২১, তাং-২১ আগস্ট ২০২০)। এ মামলায় শনিবার বিকেলে তাদের কারাগারে নেয়া হয়। সোমবার আদালত স্ব-প্রণোদিত হয়ে মামলা নেয় এবং মা-মেয়ে তিনজনকে জামিন দেয়া হয়।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ