কাউছার আলম, পটিয়া »
চারদিকে শীত হাতছানি দিচ্ছে। তাই শীতের আগমন সু-স্পষ্ট। আর শীতের আগমনে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেঁজুরের রস সংগ্রহের জন্য গাছগুলোর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পটিয়ার রস আহরণকারী গাছিরা।
হেমন্তজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশে মাঠ থেকে আমন ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ চলছে। নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। সেই সাথে মধুবৃক্ষ খেঁজুর গাছেও আসতে শুরু করেছে মধুর রস।
খেঁজুরের রস সংগ্রহ করার জন্য আগেই খেজুরগাছ পরিষ্কার করে হাঁড়ি লাগানোর জন্য প্রস্তুত করতে হয়। তাই এখন খেঁজুর গাছের ডালপালা কেটে ফেলে হাড়ি লাগানোর জন্য শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির কাজ চলছে।
শীতে খেঁজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। তাই শীত শুরুর সাথে সাথে গাছিরাও ইতোমধ্যেই খেঁজুর গাছ প্রস্তুত করে রস আহরণের কাজ শুরু করেছে। খেঁজুরের রস ও খেঁজুর গুড় দিয়ে তৈরি বাংলার ঐতিহ্য পিঠা-পায়েস শীতের সময়ের অন্যতম আকর্ষণীয় খাবার।
কচুয়াই এলাকার গাছি ফোরকান জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে খেঁজুর গাছ প্রস্তুত করছেন তিনি। খেঁজুর গাছ থেকে রস আহরণের জন্য দা ও কোমরে দড়ি বেঁধে খেঁজুর গাছে উঠে নিপুণ হাতে গাছ চাছা-ছেলা করতে হয়। পরে ছেলা স্থানে নল বসানো হয়। আর সেই নল বেয়ে নেমে আসে সুস্বাদু খেঁজুরের রস।
হাবিলাসদ্বীপ এলাকার হারুন মিয়া বলেন, এই বছর ১০ টি খেঁজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করবো। তাই এখন খেঁজুর গাছের ডালপালা কেটে হাঁড়ি লাগানোর প্রস্ততি নিচ্ছি। তবে প্রতি বছর গাছ কমে যাওয়ার ফলে আমাদের ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে।
বয়োবৃদ্ধ কবির আহম্মেদ বলেন,শীত আসলেই খেঁজুরের রসের ধুম পড়ে যেতো। বিগত আট বছর যাবৎ আধুনিকতার ছোঁয়া আর খেঁজুর গাছ কর্তন এবং নতুন করে চারা রোপণ না করার কারনেই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যটি আজ হারিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












