১৬ মার্চ ২০২৬

ঘুমধুম নোম্যান্স ল্যান্ডে ৫ মর্টার শেল, রোহিঙ্গা যুবক নিহত

কক্সবাজার প্রতিনিধি »

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে পরপর ৫টি মর্টার শেল এসে বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে ঘটনাস্থলে এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন শূন্যরেখায় বসবাসকারি রোহিঙ্গা কমিউনিটির নেতা দিল মোহাম্মদ। এসময় আহত হয়েছে শিশুসহ অন্তত ৮ জন।

শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ঘুমধুম ঘোনারপাড়া সীমান্তে নোম্যান্স ল্যান্ডে এ মর্টাল শেল এসে বিস্ফোরণ হয়। ঘটনার পর থেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে মিয়ানমার অভ্যন্তরে ব্যাপক গোলাগুলি শব্দ শুনা যাচ্ছে। নিহতের মোহাম্মদ ইকবাল (২৮) নোম্যান্স ল্যান্ডে বসবাসকারী মনির আহমেদের ছেলে।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে শূণ্যরেখায় বসবাসকারি রোহিঙ্গা কমিউনিটির নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি, মর্টার শেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনা গেছে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে শূন্য রেখায় বসবাসকারি রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে এসে পড়ে ৩টি মর্টার শেল। ক্যাম্পের নিটকর্বতী এলাকায় এসে পড়ে আরো ২টি। ৫ টি মর্টার শেল পরপর বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে ঘটনাস্থলে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরো অনেকেই।

আরেক রোহিঙ্গা নেতা আরিফ জানান, আহতদের মধ্যে ৪ জনকে উদ্ধার করে কুতুপালংস্থ এমএসএফ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিস্ফোরণের পর রাত পৌনে ৯টার দিকে মিয়ানমারের একটি জেট বিমান তুমব্রু বাজারের উপর এসে চক্কর দিয়ে গেছে। এসব কারণে আতংক বিরাজ করছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায়।

উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, বিভিন্ন জনের কাছ থেকে এমন সংবাদ পেয়ে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছে। তবে, এলাকাটি এপিবিএনের নিয়ন্ত্রণাধীন।

এ বিষয়ে বিজিবি ও এপিবিএনসহ অন্য সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে বিকেলে সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি এক যুবক আহত হয়েছে।

ঘুমধুম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলম জানান, শুক্রবার স নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি চাকমা পাড়া সীমান্তের ৩৫ নম্বর পিলারের সংলগ্ন মিয়ানমারের ১০০ গজ অভ্যন্তর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনায় আহত অংথোয়াইং তঞ্চঙ্গা (২২) নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি চাকমা পাড়ার অঙ্গোথোয়াই তঞ্চঙ্গার ছেলে।

বিস্ফোরণে আহত যুবকের একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। স্থানীয়রা আহত যুবককে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখান হতে সন্ধ্যার পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করেছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. আশিকুর রহমান।

ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীর বলেন, সীমান্ত এলাকায় গরু চড়াতে যান অংথোয়াইসহ স্থানীয় কয়েক যুবক। এক পর্যায় গরু সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমার অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। এসময় গরু ফিরিয়ে আনতে সেখানে গেলে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, সীমান্তে মিয়ানমার অভ্যন্তরে মাইন পুতে রেখেছে।

বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত যুবকের বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানান হাসপাতালে দায়িত্বরত এ পুলিশ সদস্য।

আরও পড়ুন