সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার »
দাবিকৃত ঘুষের টাকা না পেয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে একজনের অধিগ্রহণের টাকা অন্যদের দিয়ে দেয়ার অভিযোগ এনে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন এক ভূক্তভোগী। বুধবার (২৩ অক্টোবর) কক্সবাজার আদালতের ‘সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত, কক্সবাজার’এ মামলাটি করেন মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি সিকদার পাড়া এলাকার মৃত ডা. আমান উল্লাহর ছেলে কেফায়েতুল ইসলাম (মামলা নং-২৫/২০১৯)।
এতে আসামীরা হলেন, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা দেওয়ান মওদুদ আহমদ, অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. মোমিনুল হক, অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা দেবতোষ চক্রবর্তী, কানুনগো মিন কান্তি চাকমা, জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সার্ভেয়ার কেশব লাল দাস, সার্ভেয়ার ইব্রাহিম, সার্ভেয়ার সিরাজুল হয়দার, সার্ভেয়ার আবুল খায়ের এবং মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি লাইল্যাঘোনার ইসলাম মিয়ার ছেলে অলি আহমদ, মো. সেলিম প্রকাশ সেলিম উদ্দিনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, মাতারবাড়ি এলাকার ইসলাম মিয়ার ছেলে জামাল উদ্দিন, কন্যা তাহেরা বেগম, আলী আসকরের কন্যা রোমেনা আফরোজ এবং মগডেইল এলাকার আবু ছালেক।
বাদি তার ফৌজদারী দরখাস্তে উল্লেখ করেছেন, মাতারবাড়ি মৌজায় ৩ দশমিক ৭৬ একর জমির বিপরীতে ক্ষতিপূরণ পেতে রোয়েদাদ ১৩৭ মূলে তাকে ৭ ধারায় নোটিশ দেয়া হয়। সেই মতে গত ১৬ এপ্রিল এবং ২০ এপ্রিল সকাল এগারোটায় ৩ নং আসামী ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা দেওয়ান মওদুদ আহমদের কক্ষে যান তিনি। ১ নং আসামী জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনসহ অপরাপর আসামীগণের যোগসাজসে ৩ নং আসামী তাকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিতে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে। বাদি পক্ষ নগদ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধও করেন। বাকি সাড়ে চার লাখ টাকা সাত দিনের মধ্যে দিলে ক্ষতিপুরণের প্রাপ্য টাকার চেক প্রদানের আশ্বাস দেন মওদুদ আহমদ।
কিন্তু পরবর্তীতে আসামীগণ পরস্পরের সহযোগিতা ও যোগসাজসে ৩৫ পারসেন্ট ঘুষ নিয়ে সম্পূর্ণ ভূয়া, মিথ্যা ও ফেরবী কাগজপত্র তৈরি করে ১১ নম্বর আসামী ইসলাম মিয়ার ছেলে অলি আহমদসহ মো. সেলিম প্রকাশ সেলিম উদ্দিনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, মাতারবাড়ি এলাকার ইসলাম মিয়ার ছেলে জামাল উদ্দিন, কন্যা তাহেরা বেগম, আলী আসকরের কন্যা রোমেনা আফরোজ এবং মগডেইল এলাকার আবু ছালেককে ১৯ লাখ টাকা দিয়ে দেয়। অথচ এসব আসামীদের জমি অধিগ্রহণে পড়েনি। অধিক ঘুষ নিয়ে ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাদের ক্ষতিপুরণের টাকা দেয়ায় বাদি ক্ষতিপুরণের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
বাদি কেফায়েত উল্লাহ বলেন, সরকারি টাকা হরিলুট ও আত্মসাতের জন্য দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতা অপব্যবহার করেছে অভিুক্তরা। ৩৫ শতাংশ (পারসেন্ট) ঘুষ নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন আসামীরা।
বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, সরকারি টাকা এভাবে আত্মসাত করাটা দু:খজনক। সরকার যেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন সেখানে উন্নয়ন যজ্ঞের ক্ষতিপূরণ নিয়ে কক্সাবাজারে দুর্নীতির বীজ বুনা হচ্ছে অবিরাম। বিজ্ঞ আদালত আমাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। আশা করি আমরা ন্যায় বিচার পাবো।
এদিকে আদালতে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আপোষ মিমাংসা করতে তদবির শুরু করেছেন বলেও দাবি করেছেন এ আইনজীবী।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, মামলার বিষয়টি জেনেছি। অভিযোগের বিষয়ে জানিনা। উল্লেখ করা অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মামলার কপি আনতে বলেছি। যেহেতু আমার নিয়ন্ত্রণাধীন অফিস, তাই আমাকেও দায়ী করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনা সত্য হয়ে থাকলে আসল দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন ডিসি।
উল্লেখ্য, এর আগে অধিগ্রহণের টাকা নয়-ছয় করার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাফর আলমসহ সার্ভেয়ার মিলে বেশ কয়েকজন কারাভোগ করে সাময়িক বরখাস্ত হয়ে আছেন। এর রেশ না কাটতেই আবারো একই অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












