১২ মার্চ ২০২৬

চকরিয়ায় ৬ দিনেও উদ্ধার হয়নি অপহৃত স্কুলছাত্রী; পরিবারে উৎকন্ঠা

কক্সবাজার প্রতিনিধি  »

কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে এক কিশোরী শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছে চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা। গত ২৮ মে বিকেল ৫টার দিকে কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খোঁজাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়ার ছয়দিন পার হলেও অপহরণের শিকার কিশোরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মেয়েকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে চরম হতাশায় রয়েছেন অপহৃতার মা স্বরসতী বালা দাশ।

অপহরণে অভিযুক্তরা হলেন, চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড পহরচাঁদা গ্রামের শম্ভু দাসের ছেলে জয় দাশ (১৯), রতন দাসের ছেলে রাকেশ দাস (১৭) ও শুকলাল দাশের ছেলে সুভাষ দাস (১৯)।

চকরিয়ার কৈয়ারবিল ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খোঁজাখালি গ্রামের তপন দাসের স্ত্রী স্বরসতী বালা দাস অভিযোগে উল্লেখ করেন, প্রধান অভিযুক্ত জয় দাশ এলাকার পরিচিত ইভটিজার। আমার মেয়ে নদী দাস কৈয়ারবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। বিদ্যালয় আসা-যাওয়ার পথে জয় দাশ আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতো, কুপ্রস্তাব দিত। তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে আমার মেয়েকে জোরপূর্বক অপহরণ বা সমাজে কলঙ্কিত করবে বলে হুমকি ধমকি দেয়। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানালে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মেয়েকে দেখিয়ে নেবে বলে হুমকি দেয়। এরই জের ধরে ২৮ মে বিকাল পাঁচটায় বিদ্যালয় হতে প্রাইভেট শেষে বাড়ি ফেরার পথে অপহরণ করে। খোজাখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পূর্ব থেকে উৎপেতে থেকে সিএনজি নিয়ে নদীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোর পূর্বক তুলে নিয়ে যায় তারা। সিএনজি নিয়ে যাওয়ার সময় বাঁচাতে চিৎকার করে নদী। আওয়াজ শুনে স্থানীয় লোকজন গাড়ির পেছনে গিয়েও ধরতে পারেনি।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা আমাদের ফোন করলে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অপহরণকারিদের নাম সংগ্রহ করে মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। ব্যর্থ হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়ে মেয়েকে উদ্ধারের আকুতি জানালেও গত ৬ দিনেও মেয়েকে ফেরত পায়নি।

স্বরসতী বালা বলেন, জয় দাশ আমার মেয়েকে গোপন স্থানে আটক রেখে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করছে বলে আমার ধারণা। আমার অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে অপহরণকারীদের কবল হতে উদ্ধারের সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

তবে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জয়দাশের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করা হয়। তার ফোনটি বন্ধ পাওয়ায় এটি অপহরণ নাকি প্রেম ঘঠিত পলায়ন সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

চকরিয়া থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ জুবায়ের অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েই আমরা ভিকটিমকে উদ্ধারে বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েছি। বুধবার রাতেও অভিযান চালানো হয়েছে। মেয়ে যেহেতু অপ্রাপ্তবয়স্ক তাই এ ঘটনায় অপহরণ ও শিশু নির্যাতন মামলার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন