১৩ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামে করোনার ইতিবাচক পরিবর্তন; আশার আলো দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

তারেক মাহমুদ »

চট্টগ্রামে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক-উদ্বেগ কমছে না এবং বিশেষজ্ঞরা কোন আশার বাণী শোনাতে পারছেন না। কিন্তু চার মাসের ব্যবধানে এরমধ্যে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমে যাওয়া, সুস্থতার হার বেড়ে যাওয়া, হাসপাতাল নির্ভরতা কমে যাওয়াসহ কিছু তথ্য-উপাত্তসহ বেশকিছু ঘটনা আশাবাদী করে তুলছে নগরবাসীকে। সেই সাথে গ্লোব বায়োটেক ইতোমধ্যে ভ্যাকসিনের কাজ শুরু করেছে। এদিকে আসন্ন কোরবানির ঈদ বর্তমান করোনা পরিস্থিতির এই ইতিবাচক পরিবর্তনকে ভেস্তে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রামে করোনা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে। প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমছে। এটা অবশ্যই সুখবর চট্টগ্রামবাসীর জন্য। সবাই যদি সচেতন থাকে তাহলে অবশ্যই করোনা মোকাবেলা করা সহজ হবে। কিন্তু আসন্ন কোরবানি উপলক্ষে পশুরহাটে গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলে তাহলে সবকিছু মাটি হয়ে যাবে। বাস্তবতা একটাই, শঙ্কা এখনো কাটে নি। কোরবানের সময় মানুষকে নিয়ম-কানুন মেনে চলার বিষয়টি বাস্তবায়ন করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

কমছে আক্রান্তের হার

গত ২৭ মে থেকে চট্টগ্রামে বাড়তে থাকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার। সেদিন ৫৭৮ নমুনার মধ্যে ২১৫ জন করোনা পজিটিভ হয়েছিলেন। এক মাসের ব্যবধানে গত ২৬ জুন ৮৯০ নমুনায় ১৫৯ করোনা পজিটিভ হয়েছে। শতাংশের বিবেচনায় গত ২৭ মে করোনায় আক্রান্তের হার ছিল ৩৭ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং সবশেষ ৩ জুন তা এসে দাঁড়ায় ২৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। ফলে আগামী কয়েকদিন যদি এই হার কমতে থাকে বা স্থিতিশীল থাকে তাহলে সংক্রমণের হার আস্তে আস্তে আরো কমতে থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মৃত্যুর হার কম

জুনের পুরো সময়ে যেখানে চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে রীতিমত চিকিৎসা পাওয়ার হাহাকার দেখা গেছে, হাসপাতালে শয্যা খালি না থাকার কারণ দেখিয়ে একের পর এক রোগীদের ফিরিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে— সেই চিত্রেও অনেকটা পরিবর্তন এসেছে গত কয়েক দিনে। গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রামের হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসাপ্রার্থীর সংখ্যা কমেছে। শুধু তাই নয় চিকিৎসা নিতে যারা আসছেন তাদের মধ্যে জটিল উপসর্গের রোগী খুব একটা বেশি নেই। ফলে কমেছে মৃত্যুর সংখ্যা। এমনকি টেলিমেডিসিন সেবা নিতেও যে পরিমাণ ফোন আগে আসতো তার সংখ্যাও কমেছে ব্যাপকহারে। চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ১৯৫ জন। গত ২৯ মে চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৬ জন মারা যায়। এক মাসেরও বেশি ব্যবধানে কমে আসছে মৃত্যুর সংখ্যা।

বাড়ছে সুস্থতার হার

চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত করোনা জয় করেছেন ১ হাজার ১৫৬ জন। মানুষ বুঝতে পেরেছেন করোনা কোন ভয়ঙ্কর রোগ নয়। নিয়ম মেনে চললে দুই সপ্তাহের মধ্যেই সুস্থ হওয়া সম্ভব। তাই করোনা জয়ের ক্ষেত্রে মানুষ আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

কমছে হাসপাতাল নির্ভরতা

চট্টগ্রামে করোনা শনাক্ত বাড়তির দিকে থাকাকালীন চট্টগ্রামবাসী ছিল হাসপাতালমুখী। ওই সময় হাসপাতালগুলোও চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে থাকে। পরবর্তীতে মানুষ হাসপাতালের চেয়ে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ অনুভব করছেন এবং বাসাতেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠছেন। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাপ্রার্থীর সংখ্যা কমেছে। শুধু তাই নয় চিকিৎসা নিতে যারা আসছেন তাদের মধ্যে জটিল উপসর্গের রোগী খুব একটা বেশি নেই। 

আশা দেখাচ্ছে গ্লোবের আবিষ্কৃত ভ্যাকসিন

বাংলাদেশের প্রথম ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি করেছে গ্লোব ফার্মাসিটিক্যালস। বুধবার (১ জুলাই) গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের  পক্ষ থেকে দাবি করা হয় তারা পশুর শরীরে এই ভ্যাকসিনের সফলতা পেয়েছেন এবং একইভাবে মানবদেহেও এর সফলতা পাওয়া সম্ভব। বাংলাদেশে গ্লোব বায়োটিক গত ৮ মার্চ থেকে এই টিকা আবিষ্কারে কাজ শুরু করে। সব পর্যায় যথাযথভাবে পেরোতে পারলে আগামী ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে টিকাটি বাজারে আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রামে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো আইসোলেশন সেন্টার তৈরির মধ্য দিয়ে করোনা মোকাবেলায় এগিয়ে এসেছেন। এই আইসোলেশন সেন্টারগুলো প্রাথমিকভাবে অনেককে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এটা করোনায় আক্রান্ত কমার একটা কারণ হতে পারে।

জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রব বাংলাধারাকে জানান, চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে একটা দৃশ্যমান উন্নতি হচ্ছে। রোগীদের ভিড় কমেছে হাসপাতালে। করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমছে। মানুষ যদি আরো সচেতন হয়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তাহলে করোনার ভয়াবহতা রুখে দেয়া সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী বাংলাধারাকে জানান, চট্টগ্রামে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমছে, এতে কোন সন্দেহ নেই। মাসখানেক আগেও যেখানে প্রতিদিন মোট নমুনা পরীক্ষার ৩০ শতাংশ পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছিল, গত কয়েকদিনে সেখানে ২০ শতাংশ পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ সংক্রমণের গতিও কমেছে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ