২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামে চোরাই মোবাইলের ‘ভাণ্ডার’ উন্মোচন, চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম নগরীতে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মাধ্যমে সংগ্রহ করা মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫৭টি মোবাইল ফোন, পাঁচটি ল্যাপটপ, নগদ অর্থ, আইএমইআই পরিবর্তনের যন্ত্রপাতি এবং বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালী থানা সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, সিএমপির পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় কোতোয়ালী থানার একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার অভিযান চালিয়ে প্রথমে জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে জাহাঙ্গীর মনিকে গ্রেপ্তার করে।

পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নন্দনকানন আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা মুহাম্মদ সোহেল উদ্দিন ওরফে পার্টি সোহেলসহ আরও চারজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন— আবু সাঈদ, মো. শামীম ও সাইফুল ইসলাম।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে ২৪টি আইফোনসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ১৫৭টি মোবাইল ফোন, পাঁচটি ল্যাপটপ, ২০১টি সিম কার্ড, একটি মাইক্রোস্কোপ, মোবাইল ফোনের আইএমইআই পরিবর্তনের মেশিন, ৪৪৫টি মোবাইল কেসিং, বিভিন্ন চার্জার, মাল্টিপ্লাগ এবং নগদ এক লাখ এক হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা পুলিশকে জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের কাছ থেকে কম দামে মোবাইল ফোন সংগ্রহ করত। পরে বিশেষ সফটওয়্যার ও ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর ও বাহ্যিক কাঠামো পরিবর্তন করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করত।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় দণ্ডবিধির ৪১৩/৩৪ ধারাসহ সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার পার্টি সোহেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি ও ছিনতাইয়ের আটটি মামলা রয়েছে। জাহাঙ্গীর মনির বিরুদ্ধে রয়েছে চারটি মামলা। এছাড়া আবু সাঈদের বিরুদ্ধে গাজীপুরের বাসন থানায় একটি হত্যা মামলা রয়েছে।

আরও পড়ুন