২০ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামে দুর্গাপূজা আছে, দুর্গোৎসব নেই

আকবর হোসেন রবিন »

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সারা বছর এই সময়ের অপেক্ষায় থাকেন সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা। কিন্তু এবার কোভিড-১৯ এর কারণে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং মণ্ডপে জমায়েতসহ বেশকিছু বিধি-নিষেধ জারি রয়েছে। যার ফলে এ বছর ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণের পাশাপাশি স্বাস্থবিধি-নিষেধ গুলো মেনে মন্দির প্রাঙ্গণেই সীমাবদ্ধ থাকছে দুর্গাপূজা।

আরতি প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক বা কোনো আনন্দ আয়োজন এবার হচ্ছে না। আতসবাজি ও পটকা ফাটানো, ভক্তিমূলক সংগীত ছাড়া অন্য কোনো গান বাজানো এবং সন্ধ্যার আরতির পর দর্শনার্থীদের প্রবেশকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ অনেকেই বলছেন, যেখানে জনসমাগমের উপরেই নিষেধাজ্ঞা, সেখানে উৎসব হয় কী করে? তাই এ বছর দুর্গাপূজা আছে, কিন্তু দুর্গোৎসব নেই। এবার পূজা মনে, নিষ্ঠায়, ভক্তিতে ও আরাধনায়।

শ্রী শ্রী হরি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সদানন্দ ভট্টাচার্য বলেন, করোনা মহামারীর কারণে যথাসম্ভব সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শাস্ত্রমতে পূজার বাইরে এবার কোনো উৎসব পালন হবে না। অন্যবারের মতো নাটক বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে না। শুধু শুক্রবার মহা সপ্তমীতে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কয়েক ধাপে অঞ্জলি দেয়ার পর প্রসাদ দিয়ে সকলকে মন্দির চত্বর থেকে বের করে গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। দর্শণার্থীদের জন্য বিকেল ৪টা থকে রাত ৮টা পর্যন্ত মন্দিরের গেট খোলা থাকে। ভেতরে যাতে দর্শনার্থীরা বেশিক্ষণ অবস্থান করতে না পারেন, সে জন্য মন্দির চত্বরে এবার চেয়ার রাখা হয়নি। ভলান্টিয়াররাও কাউকে বেশিক্ষণ অবস্থান করতে দিচ্ছেন না।

পাহাড়তলী থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি টিটু চৌধুরী বলেন, প্রতিবার যে জমকালো আলোকসজ্জা হয় সেটা এবার আমরা করছি না। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা নাটকও হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে অঞ্জলি প্রদানের জন্য মণ্ডপে নিরাপত্তামূলক সার্কেল করা হয়েছে। কয়েক ধাপে অঞ্জলি প্রদান করেছেন ভক্তরা। হাত ধোয়ারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়াও মহানবমীতে বাসায় বাসায় প্রসাদ পৌঁছে দেয়া হবে। অতিথিদের জন্য শুকনো প্রসাদের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

গোসাইলডাঙ্গা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা সমুন দাশ গুপ্ত বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে অতিরিক্ত কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ নেই। নিয়মনীতি অনুসরণ করে মায়ের পূজা করা হচ্ছে। মহাসপ্তমীর রাতে মন্দিরের ভেতরে সীমিত আয়োজনে ছোট ছেলে-মেয়েরা ভক্তিমূলক গান করেছে।

উত্তর কাট্টলী কালীবাড়ি এলাকায় রমেশ দাশ নামের এক দর্শনার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারের নির্দেশনা মেনে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যথাবিধি নিয়ম মেনে মায়ের পূজা করা হচ্ছে। দূরত্ব বজায় রাখতে কয়েক ধাপে অঞ্জলি প্রদান করা হচ্ছে। সেখানেও অল্প লোককে রাখা হবে। এবার বাড়তি কোনো আনন্দ আয়োজন নেই। দর্শনার্থীদের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা মাস্ক ছাড়া আসবেন তাদের মাস্ক দেয়া হবে। হ্যান্ড স্যানিটইজারও রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরের পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট চন্দন কুমার তালুকদার বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদ ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মেনে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাংস্কৃতিক আয়োজন এবার থাকছে না। দর্শনার্থীদের মাস্ক পরিধান করে প্রবেশ করার জন্য এবং দূরত্ব বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য,বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যমতে, চলতি বছর চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তার মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২৫৪টি মণ্ডপে এবং বিভিন্নউপজেলা শহরে ১ হাজার ৫২৭টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত উদ্যগে আরো পূজা হওয়ায় সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে দুই হাজারের বেশি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন