তারেক মাহমুদ »
দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ইতিহাস সৃষ্টি করে এবার করোনাভাইরাস সংক্রমণের মৌসুমে উদযাপিত হতে যাচ্ছে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসবটি। সংক্রমণ কমাতে এবারের ঈদে সীমিত পরিসরে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে বসেছে পশুর হাট। তবে সংক্রমিত হওয়ার আশংকায় হাটে যেতে তেমন একটা উৎসাহবোধ করছেন না ক্রেতারা। বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল মাধ্যমে পশু কেনা-বেচায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেক ক্রেতা।
জানা গেছে, গত বছর নগরীতে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে মোট ৯টি হাট বসেছিল। করোনা প্রতিরোধে নগরীতে এবার বসছে ৭টি পশুর হাট। আগামী ৮ জুলাই এসব হাটের ইজারার সময় নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।
নগরীর যে সাত স্থানে বসছে পশুর হাট
দুই স্থায়ী পশুর হাট সাগরিকা গরুর বাজার ও বিবিরহাট থাকছে আগের মতোই। এর বাইরে ৫টি অস্থায়ী হাটগুলো হলো- কর্ণফুলী পশুরহাট, কমল মহাজন হাট গরু বাজার, সল্টগোলা গরুর বাজার, পতেঙ্গা বাটার ফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টিকে গ্রুপের খালি মাঠ ও স্টিল মিল বাজার গরুর হাট।
কোরবান উপলক্ষে চট্টগ্রামে মোট পশুর উৎপাদন
চট্টগ্রামে কোরবান উপলক্ষে ৮ হাজার ৭১ জন খামারি ৬ লাখ ৮৯ হাজার ২২টি পশু উৎপাদন করেন। এর মধ্যে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭২টি গরু, ৫৭ হাজার ১৩১টি মহিষ, ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৪৪টি ছাগল, ৪১ হাজার ২৬৬টি ভেড়া এবং ১০৯টি অন্যান্য পশু।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রেয়াজুল হক জানান, চট্টগ্রামে কোরবান উপলক্ষে পশুর চাহিদা মেটাতে এ বছর খামারিরা গরু-ছাগল মিলে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ২২টি পশু উৎপাদন করেছেন। চট্টগ্রামে এবার পশুর চাহিদা রয়েছে ৭ লাখ ৩১ হাজারের মত। গরু মোটাতাজা করার ক্ষেত্রে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর খামারিদের নানাভাবে সহযোগিতা করছে। আশা করছি কোরবানিতে তেমন একটা পশুর সংকট দেখা দিবে না।
সংক্রমণ রোধে এবারের আয়োজন ডিজিটাল পশুর হাট
কোরবানির এ সময়ে পশু কেনা, পশু পছন্দ করতে হাটে যাওয়াসহ নানা কারণেই প্রচণ্ড ভিড় ও ব্যাপক মানুষের সমাগম ঘটে হাটগুলোয়। ভিড় ঠেলে, রোদে পুড়ে, ঘেমে-নেয়ে একাকার হতে হয় পশু কিনতে আসা মানুষকে। বিক্রেতাদেরও গরু-ছাগল নিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কয়েকদিন হাটে অবস্থান করা, বিক্রির টাকার নিরাপত্তাসহ রয়েছে নানা সমস্যা। করোনাপরিস্থিতি বিবেচনায় এবং সংক্রমণের প্রবল ঝুঁকি এড়াতে এবার কোরবানির হাট মাঠে নয়- অনলাইনে করার আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।
অনলাইন পশুর হাটের মধ্যে বেঙ্গল মিটের, প্রিয়শপ ডটকমের, আজকের ডিল ডটকমের, বিক্রয়ডটকমের।
এদিকে দেশের চলমান করোনা পরিস্থিতিতে যেখানে অধিকাংশ খামারি নানান সংকটের কারণে হতাশ সেখানে প্রতিবন্ধকতা দূর করেই ব্যবসায় সফলতা অর্জন করছে চাটগাঁইয়া এগ্রো। খামার ব্যবসায় সফলতার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। প্রতি বছরের মত এবারো কোরবান উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের গরুর সরবরাহ রয়েছে খামারটিতে।
চাটগাঁইয়া এগ্রোর সাথে যোগাযোগের নম্বর– ০১৬৭১৬৯১২২১ (রিফাত)
কোরবানির পশুর বাজার নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কি ভাবছেন
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদিতে যারা হজ করতে যায়, দেখবেন কারা কোরবানি দিচ্ছে বা কে দিচ্ছে কেউ যানে না। তবে আমাদের ঐতিহ্য আমরা হাটে যেয়ে গরু দেখে পছন্দ করে কিনব। বাসায় নিয়ে আসব। সেটা কোরবানি হবে, নিজে বিতরণ করব। এটা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। বেসরকারি খামারিদের পাশাপাশি, রাষ্ট্রীয়ভাবেও এমন ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিলেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বিশৃঙ্খলা এড়াতে তৎপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী
সীমিত পরিসরে স্থাপিত কোরবানীর পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তবে একইসাথে তিনি পশু ক্রয়-বিক্রয়ের সময় দেশবাসীকে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও আহবান জানান।
এদিকে কোরবান উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রত্যেকটি পশুর হাট ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান। হাটে আসা কোরবানির পশুবাহী ট্রাক তল্লাশির আওতামুক্ত থাকবে বলেও জানান তিনি। প্রত্যেকটি হাটে থাকবে পুলিশের কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার। জাল নোট শনাক্তকরণের মেশিন বসানোর পাশাপাশি মানি এস্কর্ট সুবিধাও থাকবে।
তিনি বলেন, ছিনতাইকারী ও মলমপার্টির দিকে বিশেষ নজর থাকছে এবার। যারা জামিনে মুক্ত হয়েছে তাদেরকেও নজরে রাখা হয়েছে।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












