১৩ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামে স্বাভাবিক জীবনযাপনে করোনা সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে গত ৩ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকেই গত পাঁচ মাস বিরতিহীনভাবে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন চট্টগ্রামবাসী। ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। তবে মানুষের জীবন-জীবিকার তাগিদে ও করোনার কারণে সৃষ্ট সার্বিক অর্থনৈতিক অচলাবস্থাকে গতিশীল করতে সরকার ধাপে ধাপে জনজীবনকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সবকিছু করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে চট্টগ্রামের অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে উদাসীন।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, স্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে ন্যূনতম মাস্কও ব্যবহার করতে চাচ্ছেন না তারা। পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব মানারও বালাই নেই।

চট্টগ্রামে অভিজাত শপিং মল, বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্র সবই খুলে দেয়া হয়েছে। এসব জায়গায় মানুশের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কোথাও কোন সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। তাছাড়া চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে না গণপরিবহণগুলোও। এদিকে চা-সিগারেটের দোকানে উপচে পড়া ভীড়। সেখানেও স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। চট্টগ্রামের কাঁচা বাজার থেকে শুরু করে মাছের বাজারে পা ফেলা দায়। অধিকাংশ দোকানী ও ক্রেতার মুখে মাস্ক দেখা যায় নি। এতে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের সার্বিক জীবনযাত্রা দেখলে করোনার মতো প্রাণঘাতি ভাইরাসের উপস্থিতি আছে বলে মনে হয় না। মানুষের মধ্যে নেই কোন ভয়-ভীতি। এভাবে ঢিলেঢালা জীবনযাপনে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ।

এ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমরা এখনো বিপজ্জনক অবস্থায় আছি। করোনাকে অবহেলা করার সময় এখনো আসে নি। এভাবে ঢিলেঢালা ভাব দেখানোর কারণে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বাংলাধারাকে জানান, আমরা বার বারই বলে আসছি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোন বিকল্প নেই। আমরা এমনও বলছি করোনা জয় করে সুস্থ হবার পরেও খুশি হবার কারণ নেই। অর্থাৎ সুস্থ হয়ে যাবার পরেও কিছু ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামবাসীর সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। সবাই সচেতন হলে, সাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনাকে মোকাবেলা করা সহজ হবে। অন্যথায় সার্বিক পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ