মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক »
চট্টগ্রামে সরকারী পরিত্যক্ত সম্পত্তি অবৈধ দখলে রাখতে জামায়াত-বিএনপি’ সিন্ডিকেট মরিয়া। আকবরশাহ মাজার এলাকায় পাহাড় কেটে প্লট নির্মাণ করলেও বিক্রি করতে পারেনি অবৈধতার কারণে। এই সিন্ডিকেটের আর্শীবাদপুষ্টদের দায়েরকৃত মিথ্যা ৪টি মামলা ঠেকে আছে ১৮ বছর। প্রায় ৯০ কোটি টাকার ৬০ গন্ডা সরকারী ভূমি অবৈধ দখলে রাখতে মরিয়া বাদী নুরুজ্জামান। চট্টগ্রাম আদালতে দায়ের করা এসব মামলার বিবাদী করা হয়েছে সত্তরোর্দ্ধ এক বিধবা নারীকে। ১৮ বছর আগে এই মামলা দায়ের করলেও আদালতকে ফাঁকি দিতেই ৯ বছর ধরে বাদীর গড় হাজিরায় সাক্ষী চলছে ঝিমিয়ে।
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর মামলার নির্ধারিত ধার্য্য তারিখ রয়েছে। এদিকে, মহানগর ভূমি অফিস (কাট্টলী সার্কেল) এর রেকর্ডে লাল কালিতে লেখা রয়েছে দায়েরকৃত মামলার এসব ভূমি সরকারী পরিত্যাক্ত ও অবাঙ্গালী হাসিনা ইব্রাহিমের। ফলে ১৯৭২ সালের এপি তালিকাভূক্ত এসব ভূমির খাজনা নেয়া বন্ধ রয়েছে ১৯৯৪ সাল থেকে। এদিকে, সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করে উন্নয়ন বন্ধ রেখেছে এই সরাকারী ভূমির অবৈধ দখলদাররা।

সরকারী সম্পত্তি নিজেদের অবৈধ দখলে রাখতে আদালতকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। এই ৪টি মামলায় চার শতাধিক বার সময় আবেদন দিয়ে আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করছে বাদী নুরুজ্জামান। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বাদীর ছলচাতুরীর কারণে আদালত বিভিন্ন সময়ে বাদীকে জরিমানা করলেও স্বাক্ষী শেষ করতে নারাজ বাদী। এমনকি বাদী সুস্থ থাকলেও মিথ্যা সময় আবেদন দিয়ে আদালতের বারান্দায় ঘুরছে। বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় আসার অপেক্ষায় আছে বাদী। গত ১৮ বছরে চট্টগ্রামের সিনিয়র ৩য় সহকারী জজ আদালতের বিচারকও পাল্টেছে কমপক্ষে ১২ বার।
চট্টগ্রাম মহানগরীর কাট্টলী সার্কেল ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারী সম্পত্তি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে তালিকা তৈরী হচ্ছে। তালিকা অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে এ ধরনের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। ১৯৭২ সালের এপি তালিকাভূক্ত এসব ভূমির খাজনা নেয়া বন্ধ রয়েছে ১৯৯৪ সাল থেকে। এমনকি এসি ল্যান্ড থেকে বিভিন্ন সময়ে নোটিস করা হলেও এসব সম্পত্তির অবৈধ দখলদাররা ভূমি দফতরে উপস্থিত হচ্ছে না। ২০০৯ সালে এসব ভূমির খতিয়ান বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) চাঁন্দগাও সার্কেলের পক্ষ থেকে। এছাড়াও ভূমি মন্ত্রীর দফতর থেকে গত বছর ফেব্রুয়ারীতে একটি তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের জন্য বলা হলেও তা এখনো পাঠানো হয়নি। লট-৯ পাহাড়তলী মৌজায় বিএস খতিয়ান অনুযায়ী প্রায় ১ একর ২০ শতক জায়গা নামে বেনামে ভূয়া দলিলের মাধ্যমে দখলে রেখেছে নুরুজ্জামান গং নামের ভূমিদস্যু চক্র। এসব জায়গার একটি অংশে থাকা পাহাড় কেটে ফেলেছে এই ভূমিদস্যু চক্র এমন অভিযোগেরও তদন্ত চলছে।

চট্টগ্রাম মহানগর কাট্টলী সার্কেল ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী নুুরুজ্জামান বিএস দাগ নং-৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৫, ৭৬, ৭৮, ৭৯ ও ৮২ দাগে থাকা প্রায় ১ একর ২০ শতক সরকারী পরিত্যক্ত সম্পত্তি অবৈধ দখলে রেখেছে নুরুজ্জামান গং। এসব দখলকৃত সম্পত্তি মূলত অবাঙ্গালী হাসিনা ইব্রাহিম গংদের। ১৯৮৮ সালে এসব ভূমি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০০১ সালে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কর্তৃক পুণরায় পিও/৭২ এর আওতায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ফলে মহানগর কাট্টলী ভূমি অফিস ও জেলা প্রশাসনের দফতরে ৮৫, ৮৬, ৯৫ ও ১০১ নং খতিয়ানে এসব দাগাদি সরকারী পরিত্যক্ত (এপি) সম্পত্তি হিসেবে নথিভূক্ত আছে। ১৯৯৪ সালের পর থেকে ভূমি অফিস এসব জায়গার খাজনা আদায় চূড়ান্তভাবে বন্ধ রেখেছে ভূমি অফিস। এমনকি এসি ল্যান্ড থেকে বিভিন্ন সময়ে নোটিস করা হলে এসব সম্পত্তির অবৈধ দখলদাররা ভূমি দফতরে উপস্থিত না হয়ে দফতরের কর্মচারীদের ম্যানেজের অপচেষ্টা করছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম আদালতের ৩য় সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ২০০৪ সালের ২৯ জানুয়ারি মামলা নং -১৯/২০০৪ রুজু হয়। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছরে প্রায় ২৫০টি তারিখে এই মামলায় আদালত বসলেও বাদী সাক্ষী দিতে নারাজ। বিভিন্ন সময়ে আদালত বাদিকে (কষ্ট) জরিমানা করার পরও বাদী সাক্ষী দিয়ে শেষ করছে না। এর মধ্যে বাদী পক্ষের সাক্ষীর শুনানি ছিল প্রায় ৯০টি ধার্য্য দিন। কিন্তু বাদী মাত্র ৬/৭ টি তারিখে মামলার আর্জি থেকে কয়েকটি লাইনের উপর সাক্ষ্য দিয়েছেন। বাকি অন্য সব তারিখে নানা অজুহাতে বাদীপক্ষ সময় ক্ষেপনের জন্য সময় আবেদন করেছেন।
অপরদিকে, একই আদালতে ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল মামলা নং ১১১/২০০৮ রুজু করেন একই বাদী। এ মামলায়ও গত ১৪ বছরে দুই শতাধিক তারিখে এই মামলায় আদালতে নথি উপস্থাপন হলেও বাদী সাক্ষী দিতে নারাজ। এতে মামলায় বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ছিল প্রায় ৮১টি। কিন্তু এক্ষেত্রেও বাদী শুধু নানা অজুহাতে সময় আবেদন দিয়ে এখনও পর্যন্ত সময় ক্ষেপণ করছেন।উল্লেখ্য, এই দুটি অপর মামলার আওতায় আরও দুটি মিস মামলা দায়ের করেছেন বাদী।
বাংলাধারা/এআই












