তারেক মাহমুদ »
করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা বন্ধ ঘোষণা করার পাশাপাশি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও লোকসমাগম স্থানগুলোতে জনসমাগম এড়ানোর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। অথচ চট্টগ্রামের আদালত পাড়ায় কমেনি মানুষের ভীড়। প্রতিনিয়তই ভীড় চোখে পড়ছে। এতে করে অনেকের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা গেছে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে আসেন। বিচারপ্রার্থীদের কথা চিন্তা করে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে এখনও আদালত খোলা রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হলে আদালত ও বিচারপ্রার্থী উভয়ই ক্ষতিগ্রস্থ হবেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, আইনজীবী ভবনসহ প্রায় ভবনে দেখা গেছে মানুষের উপচে পড়া ভীড়। করোনার প্রতিরোধে করণীয় দিক নির্দেশনাগুলো উপেক্ষা করে বাদি-বিবাদি এমনকি আইনজীবীরাও অবাধে চলাফেরা করছেন।

হালিশহর থেকে আসা বিচারপ্রার্থী আবুল কামাল বলেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে জমি সংক্রান্ত একটি মামলা চলছে। জাল কাগজ করে আমার জায়গা তার নামে লিখে নিয়েছে। এখনও বিচার পাই নাই। তাই এমন পরিস্থিতির মধ্যেও আদালতে হাজির হয়েছি ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য।
ভাটিয়ারী থেকে আসা আব্দুল সামাদ নামে এক বিচারপ্রার্থী জানান, জোরপূর্বক আমার জমি দখল করে ভোগ করছে আমার এক প্রতিবেশী। আদালতে এসেছি মামলা দেয়ার জন্য।
অ্যাডভোকেট আব্দুর গাফফার (মুন্না) বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে আমরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি। তাছাড়া আদালত বন্ধের কোন নির্দেশনা এখনও আসে নি। হাতে এমন কিছু মামলা আছে যার ফলে আদালতে না আসলেই নয়।
অ্যাডভোকেট সুম্মিতা চাকমা বলেন, চারদিকে করোনা যেভাবে মহামারি আকার ধারণ করেছে আমরা খুবই শঙ্কিত। যদিও আমাদের অফিস বা আদালত ভবন স্যাভলন দিয়ে প্রতিনিয়ত পরিস্কার করা হচ্ছে। মামলা বা নানাবিধ সমস্যার কারণে আদালতে জনসমাগম বাড়ছেই। তাই করোনা ভাইরাস ছড়ালে ছড়াতেও পারে।
তবে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রধান বিচারপতিও। আদালতে চাপ কমাতে আপাতত আগাম জামিন শিথিল করার পরামর্শ দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এদিকে, করোনাভাইরাস থেকে রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আদালত বন্ধ ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে বিদেশ ফেরত যাত্রীদের সরকারিভাবে কোয়ারেন্টাইনে রাখার আর্জি জানানো হয়েছে।
এছাড়া কোয়ারেন্টাইন ঠিকমত হচ্ছে কি না তা মনিটরিং করার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।
বুধবার (১৮ মার্চ) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।
করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে আদালত বন্ধ হবে কিনা পরিস্থিতি বুঝে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, এখন সুপ্রিম কোর্ট বন্ধ। আমরা একদিন বসবো আদালত বন্ধ করা হবে কি-না। আবার আমাদের বিচারপ্রার্থীদের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিচারপ্রার্থীরা কোর্টে আসেন। বন্ধের পর আদালত চালু হলে আপনারা জানতে পারবেন করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে আদালতসমূহ বন্ধ হবে কিনা।
উল্লেখ্য, চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৯৬৫ জনে। চীন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পরিস্থিতি সাময়িক উন্নত হলেও ইরান ও ইতালিতে মৃত্যু মিছিল বাড়ছেই। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ইরানের পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে সেখানে বিশাল-বিশাল গণকবর খোঁড়া হয়েছে। এমনকি দেশের অনেক স্কুল, অফিস, কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












