২৭ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ১৬ মাসে জন্ম হয়েছে ৬৯টি প্রাণীর

বাংলাধারা প্রতিবেদক»

গত ১৬ মাসে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বাঘ, হরিণ, সাপ, ময়ুর, বানর, পাখিসহ ৬৯টি প্রাণীর জন্ম হয়েছে। এছাড়া করোনাকালে চিড়িয়াখানায় মারা গেছে  ২২ প্রজাতির বেশ কিছু পশুপাখি।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন যাবত চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকায় পশুপাখিদের জন্য অনুকূল পরিবেশের তৈরি হয়েছে। এসময় চিড়িয়াখানায় কিছু আর্থিক সংকট থাকলেও বেশ কিছু প্রাণীর ঘরে জন্ম নিয়েছে নতুন অতিথি। একইভাবে নিউ ক্যাসেল (ঝিমুনি) রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় বেশ কিছু প্রাণী।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সদস্য সচিব রুহুল আমীন বলেন, করোনার বন্ধে ২০২০ সালের মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ২০২১ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত চিড়িয়াখানায় বাঘ ও হরিণের ঘরে নতুন অতিথি এসেছে। ময়ূরসহ ২৫টির বেশি পাখি জন্ম নিয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য, বাঘ শাবক জন্ম নিয়েছে চারটি, একটি গয়াল, একটি ঘোড়া, দুইটি চিত্রা হরিণ, একটি মায়া হরিণ, একটি সাম্বার হরিণ, ২৮টি অজগরের বাচ্চা, দুইটি বানর, পাঁচটি ময়ূর, একটি সজারু, ১০টি টিয়াপাখি, ইন্দোনেশিয়ার সাতটি মুরগি ও চারটি ককাটিয়েল পাখি। 

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, আগে চিড়িয়াখানায় বাঘ ছিল দুইটি। বর্তমানে বিরল সাদা বাঘসহ ছোট-বড় মিলিয়ে নয়টি বাঘ রয়েছে। শেষ বাঘের বাচ্চার নাম রাখা হয়েছে জো বাইডেন। বাংলাদেশে বিলুপ্ত প্রায় সাম্বার হরিণের একটি শাবক জন্ম নিয়েছে চট্টগ্রামের চিড়িয়াখানায়।

তবে বাচ্চা জন্ম দিতে গিয়ে মারা যায় একটি জেব্রা। বর্তমানে জেব্রার খাঁচায় তিনটা জেব্রা রয়েছে। আগে যেখানে ছিল ছয়টি জেব্রা।

অন্য খাঁচায়, নিজেদের মধ্যে লড়াই করে মারা যায় একটি গয়াল। এছাড়া নিউ ক্যাসেল রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় একটি ইমু পাখি, একটা উট পাখি, বানরসহ বেশ কিছু বিদেশী পাখি।

এদিকে বানরের খাঁচা প্রায় শূন্য। আগে তিন প্রজাতির ২৮টির বেশি বানর ছিল। তবে ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত ১৬ মাসে চিড়িয়াখানায় ১৩টির বেশি বানর মারা যায়। এ মুহূর্তে চিড়িয়াখানায় ১১টি বানর রয়েছে। জানা যায়, প্রায় দুই বছর ধরে বানরগুলো টিভি রোগে আক্রান্ত হয়েই মারা যাচ্ছে। শুধু বানরের খাঁচায়ই নয়, করোনার মধ্যেই বাচ্চা জন্ম দিতে গিয়ে বাচ্চাসহ একটি মা জেব্রা মারা যায়।

অন্যদিকে, উটপাখির খাঁচায় বর্তমানে দুইটা উটপাখি রয়েছে। যেখানে খাঁচায় আগে চারটি উট পাখি ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের পরিবেশ ও খাঁচার সংকটে একটা ডিম থেকেও বাচ্চা ফুটেনি। একইভাবে তিন বছরে মারা যায় তিনটি ইমু পাখি; বর্তমানে রয়েছে একটি। এদিকে করোনা বন্ধে ১৮ মাসে খাঁচার মধ্যে লড়াই করতে গিয়ে মারা যায় একটি গয়াল, দুইটা হরিণ, একটা ঘোড়া, একটা ময়ূরসহ আরো কিছু পশুপাখি। এছাড়া বাঘের ঘরে মারা যায় দুইটি বাচ্চা।

চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. মো. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, করোনার বন্ধে চিড়িয়াখানায় নিরিবিলি পরিবেশ ছিল। এটি প্রাণীর জন্য অনুকূল পরিবেশ। এসময় চিড়িয়াখানার অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশ পাওয়ায় অনেকগুলো প্রাণীও জন্ম নিয়েছে।  এসময় কিছু প্রাণী মারাও যায়। কারণ বাংলাদেশের যে পরিবেশ এর পরিবেশে পশুপাখি ঝিমানি রোগে আক্রান্ত হয় বেশি। বিশ্বের অন্যান্য দেশে কয়েক বছর পরপরই খাঁচা থেকে পশুপাখি পরিবর্তণ করেন। কিন্তু আমরা এটা করতে পারি না। কারণ আমাদের সেই সুযোগও নেই। তাই দেখা যায় কয়েক বছর গেলেই কিছু পশুপাখি মারা যায়।

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন