২৬ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ইউরোপ যাবে জাহাজ, রপ্তানিতে নতুন দিগন্তের আশা

বাংলাধারা ডেস্ক »

চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ইউরোপ যাবে জাহাজ- এমন প্রত্যাশা বহুদিনের। সেই আশা এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে, তাতে ইউরোপের বাজারে রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা দেখছেন ব্যবসায়ীরা। সেই উপলক্ষে এবার চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে ‘এমভি সোঙ্গা চিতা’।

জাহাজকে ঘিরে বাংলাদেশের জন্য খুলতে যাচ্ছে নতুন সমুদ্র পথ, সেই সম্ভাবনাই সোঙ্গা চিতার আগমনকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।

গত ডিসেম্বরে আরেকটি জাহাজের পরীক্ষামূলক যাত্রা সফল হওয়ায় এবার নিয়মিত যাত্রা শুরু হচ্ছে। এখন থেকে দুটি জাহাজ নিয়মিত চলবে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ইউরোপের পথে।

শুরুতে কিছুটা ছোট পরিসরে ও ছোট জাহাজে করে কন্টেইনার পরিবহন হলেও এ উদ্যোগ আশা জাগাচ্ছে রপ্তানিকারকদের।

বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম বৃহৎ গন্তব্য ইউরোপের দেশগুলোতে পণ্য রপ্তানি হয় অন্য দেশের বন্দর ঘুরে। সেখানে অপেক্ষায় থাকতে হয় বড় জাহাজের বুকিং পেতে। এতে ক্রেতাদের হাতে পণ্য পৌঁছাতে দেরি হয়, খরচও বাড়ে। প্রতিযোগীদের চেয়ে পিছিয়ে পড়ার বড় কারণ এটাও।সেই বাধা দূর করতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রথমবারের মত ইউরোপের গন্তব্য ইতালিতে শুরু হচ্ছে জাহাজে করে সরাসরি রপ্তানি পণ্য পরিবহন। 

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইতালির রেভেনা বন্দরের উদ্দেশ্যে ৯৮৩ রপ্তানি পণ্যের কন্টেইনার নিয়ে যাত্রা করবে ‘এমভি সোঙ্গা চিতা’। সেজন্য সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে দেশের এ প্রধান সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান জানান, এমভি সোঙ্গা চিতা জাহাজটিকে সরাসরি বার্থিংয়ের সুবিধা দেওয়া হবে, যাতে অপেক্ষায় থাকতে না হয়। এছাড়া গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ সব কারিগরি ও প্রশাসনিক কাজেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাতে দ্রুত সেটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারে।

ইতালিসহ ইউরোপের কয়েকজন ক্রেতার আগ্রহেই ইতালির ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার প্রতিষ্ঠান আরআইএফ লাইন এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান ক্যালিপসো কোম্পানিয়া ডি নেভিগেশন চট্টগ্রাম-ইতালি সরসারি জাহাজ চলাচলের এই সেবা চালু করছে।

এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর ইতালি থেকে খালি কন্টেইনার নিয়ে পরীক্ষামূলক যাত্রায় চট্টগ্রামে পৌঁছায় ‘ক্যাপ ফ্লোরেস’ নামের একটি জাহাজ।

নতুন এ সমুদ্রযাত্রাকে শুধু ইতালির বন্দরে একটি রপ্তানি পণ্যবাহী জাহাজের যাত্রা হিসেবে দেখতে রাজি নন রপ্তানিকারক, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিদেশি ক্রেতাদের প্রতিনিধি ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা।

তারা বলছেন, এতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ‘নতুন দিগন্ত’ উন্মোচিত হবে। সরাসারি যাত্রায় খরচ ও সময় কমলে ইউরোপের দেশগুলোর পাশাপাশি আমেরিকান ক্রেতারাও আগ্রহী হয়ে উঠতে পারেন এ ব্যবস্থায়।

সেক্ষেত্রে পোশাক রপ্তানি খাতে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে লড়াইয়ে আরও একধাপ এগিয়ে যেতে পারবে বাংলাদেশ। বিদেশি ক্রেতাদেরও এ দেশ থেকে পণ্য কেনার আগ্রহ বাড়বে, যা এগিয়ে দেবে অর্থনীতিকে।

তথ্যসুত্র : বিডিনিউজটুয়েন্টিফোর

আরও পড়ুন