এবার অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দেয়া হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। গত মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শেষ না হতেই নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
গত বুধবার সকাল ৮ টায় শেষ হয় পূর্বঘোষিত ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি। এরপর শুরু হয় এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি।
পরিষদের ঘোষিত এই কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। এক জরুরি সভা করে স্কপ এটি সমর্থন করে। পৃথক আরেক বৈঠকে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার শাখাওয়াত ও বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের পদত্যাগ দাবি করে তারা।
চট্টগ্রাম বন্দরে গত শনিবার থেকে টানা তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালনের পর আজ সকাল আটটা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হয়। সেই কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই আন্দোলনকারীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। তাতে চলমান অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ গণবদলির মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন দমন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা বলেন, বদলি করে আন্দোলন দমন করা যাবে না। অবিলম্বে শ্রমিকনেতাদের বদলি আদেশ প্রত্যাহার এবং এনসিটি ইজারা চুক্তির প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশ থেকে বন্দরের কথিত দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বন্দর চেয়ারম্যান ও বিডা চেয়ারম্যানকে অবিলম্বে চাকরি থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বন্দর সমস্যার সমাধানে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শাখাওয়াত হোসেনের পদত্যাগও দাবি করেন বক্তারা।
জাহাজ আনা-নেওয়াও বন্ধ
কর্মবিরতির চতুর্থ দিনে গত মঙ্গলবার থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা বন্দরের মূল জেটিতে জাহাজ আনা-নেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। এতে আজ মূল জেটিতে ছয়টি জাহাজ আনা-নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে পতেঙ্গায় আরএসজিটি টার্মিনাল ও দুটি বিশেষায়িত জেটিতে তিনটি জাহাজ আনা-নেওয়া হয়েছে।
এত দিন কর্মবিরতির কারণে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানো এবং খালাসের কাজ বন্ধ থাকলেও জাহাজ আনা-নেওয়ায় বাধা ছিল না। আজ প্রথমবারের মতো সেই কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেল। ফলে বন্দরের অচলাবস্থা আরও জোরালো হয়েছে।













