চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কর্মরত ১৫ জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) শাখার এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ২ ফেব্রুয়ারি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের চবক শাখার সহকারী সচিব মো. বেলায়েত হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নামের পাশে উল্লেখিত দপ্তর ও পদে প্রেষণে বদলি করা হয়।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, চবক থেকে সম্প্রতি পানগাঁও আইসিটি (ঢাকা)-তে সংযুক্ত অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগের অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবিরকে প্রেষণে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষে বদলি করা হয়েছে।
পানগাঁও আইসিটি (ঢাকা)-তে সংযুক্ত নৌ বিভাগের ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকনকে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষে বদলি করা হয়।
এছাড়া পানগাঁও আইসিটি (ঢাকা)-তে সংযুক্ত প্রকৌশল বিভাগের এসএস খালাসি মো. ফরিদুর রহমান, পরিবহন বিভাগের উচ্চ বহিঃসহকারী মো. শফি উদ্দিন এবং একই পদের রাশেদুল ইসলামকে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষে বদলি করা হয়েছে।
চবক পরিবহন বিভাগের এফসিএল শাখার উচ্চ বহিঃসহকারী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষে, পরিকল্পনা বিভাগের স্টেনোটাইপিস্ট (ঢাকার কমলাপুর আইসিডিতে সংযুক্ত) মো. জহিরুল ইসলামকে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষে এবং বিদ্যুৎ বিভাগের এসএস পেইন্টার (কমলাপুর আইসিডিতে সংযুক্ত) মো. হুমায়ুন কবিরকে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষে বদলি করা হয়।
পানগাঁও আইসিটি (ঢাকা)-তে সংযুক্ত চবক প্রশাসন বিভাগের উচ্চমান সহকারী মো. শাকিল রায়হান, চবক যান্ত্রিক বিভাগের ইসিএম ড্রাইভার মানিক মিঝি এবং প্রকৌশল বিভাগের মেসন (কমলাপুর আইসিডিতে সংযুক্ত) মো. শামশু মিয়াকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া চবক যান্ত্রিক বিভাগের ইসিএম ড্রাইভার মো. লিয়াকত আলী ও একই পদের আমিনুর রসুল বুলবুলকে যথাক্রমে পায়রা ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষে এবং যান্ত্রিক বিভাগের খালাসি মো. রাব্বানীকে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষে প্রেষণে বদলি করা হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়, দাপ্তরিক প্রয়োজনে ও জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে আদেশটি জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালনের জেরে গত ১ ফেব্রুয়ারি পৃথক আদেশে আরও ১২ কর্মচারীকে বদলি করা হয়।
এ বিষয়ে শ্রমিক নেতারা বলছেন, শ্রমিক-কর্মচারীদের দমন-পীড়ন ও বদলি করে আন্দোলন দমানো যাবে না। সোমবারও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তারা।
চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ পারসোনাল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘দুটি পৃথক দাপ্তরিক আদেশে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। জরুরি দাপ্তরিক ও অপারেশনাল কাজের প্রয়োজনে এসব বদলি করা হয়েছে।’
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের চট্টগ্রাম থেকে অন্যত্র বদলি ও স্ট্যান্ড রিলিজ করছে। এতে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।’
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, ‘আন্দোলন চলবে। বদলি করে এই আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।’













