চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের শুনানি শেষে মঙ্গলবার হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
সরওয়ার আলমগীরের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী মাসুদ বলেন, “আদালতের এই আদেশের ফলে সরওয়ার আলমগীরের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আর কোনো বাধা রইল না।”
আদালতে শুনানিতে সরওয়ার আলমগীরের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ও ব্যারিস্টার ফয়সল মাহমুদ ফয়জি।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চট্টগ্রাম-২ আসনে (ফটিকছড়ি) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের করা রিটের ওপর আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য রেখেছিলেন হাইকোর্ট, যা আদালতের মঙ্গলবার কার্যতালিকায় ৮৩ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।
আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে ১৮ জানুয়ারি সরওয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিনের আপিল প্রথম দফায় নামঞ্জুর করেছিল ইসি। কিন্তু ওই দিন বিকেল পাঁচটায় সরওয়ার আলমগীরের মালিকানাধীন এএনএফজেড টেরি টেক্সটাইলের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডের একটি স্থিতি আদেশ জমা দেন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী। ফলশ্রুতিতে নির্বাচন কমিশন ফটিকছড়ি আসনের বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেছিল।
ইসির ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে সরওয়ার আলমগীর ২০ জানুয়ারি মনোনয়ন ফেরত চেয়ে রিট করেন।
বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরকে নির্বাচনের মাঠের বাইরে রাখতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নুরুল আমিন ছয়টি সিভিল পিটিশন দায়ের করেন। ২২ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজের সর্বশেষ আদেশে বলা হয়, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরকে আর ঋণখেলাপি হিসেবে গণ্য করা হবে না।
আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি মো. রেজাউল হক প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেডের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
সরওয়ার আলমগীর ঋণখেলাপি নন বলে ঘোষণার বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের ওপর আগে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হলে তাঁর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ সুগম হয়। চেম্বার জজ তাঁর আগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করায় হাইকোর্টের ওই রায় কার্যকর থাকে।
প্রিমিয়ার লিজিংয়ের সঙ্গে সরওয়ার আলমগীরের ঋণ পুনঃতফসিলের বিষয় নিয়ে তাঁর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে রিট শুনানিতে যমুনা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে সরওয়ার আলমগীরের খেলাপি ঋণ রয়েছে মর্মে অভিযোগ উত্থাপন করেন জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবীরা।
সরওয়ার আলমগীরের আইনজীবী আহসানুল করিম জানান, এই আদেশের ফলে সরওয়ার আলমগীরের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আর কোনো বাধা রইল না। তিনি চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। সকল আইনি বাধা তিনি অতিক্রম করেছেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর বলেন, “সত্যের জয় অবশ্যাম্ভাবী। সেটা আবারও প্রমাণিত হলো। একটি মহল আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে নানাভাবে চেষ্টা করেছে, কিন্তু তারা সফল হয়নি। মাননীয় আদালতে ন্যায়বিচার পেয়েছি। ফটিকছড়িবাসী আমার সঙ্গে আছে। আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
ফটিকছড়িতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উচ্ছ্বাস :
ফটিকছড়িতে বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র হাইকোর্ট কর্তৃক বৈধ ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়লে উল্লাসে ফেটে পড়েন বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং উপজেলা ও পৌর সদর এলাকায় ধানের শীষের প্রচারণা শুরু করে দেন।
এছাড়া দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করেন।













