বাংলাধারা প্রতিবেদন »
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে আজান দিয়ে ও নামাজ পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট দেওয়া দুজনকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত দুজন হলেন—মুহাম্মাদ শিব্বির বিন নজির (২১) ও রিফাত খন্দকার (২১)। তারা দুইজন ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী।
এর মধ্যে রিফাত ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি মাদ্রাসার ছাত্র। ওই মাদ্রাসাটি হেফাজত নেতা মামুনুল হকের পরিবার পরিচালনা করে থাকে।
মুহাম্মদ শিব্বির বিন নজির নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে আজান দেওয়ার একটি ছবি ভাইরাল হয়। সেই যুবক ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে লিখেন— ‘চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় উঠে আজান দিলাম। আলহামদুলিল্লাহ। ইনশাআল্লাহ অতিশীঘ্রই সেখানে ইসলামের পতাকা উড়বে।’
এই পোস্টটি দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় নানান সমালোচনা। অনেকেই সেই যুবককে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান।
এই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বাসুদেব রায়।
এরপর ঘটনাটি নিয়ে অভিযানে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম।
চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কেশব চক্রবর্তী জানান, ‘শিব্বির ফেসবুকে ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট দেয় আর রিফাত সেটা শেয়ার করে। শিব্বির সুন্দরবন ট্যুরিজম নামে একটি প্রতিষ্ঠানে টুরিস্ট গাইড হিসেবে কাজ করে। ২৭ আগস্ট পর্যটক নিয়ে সেই চন্দ্রনাথ পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে উসকানিমূলক এই কর্মকাণ্ড করে।’
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার দুজনের সঙ্গে জঙ্গিদের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শিব্বির ও রিফাতের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাধারা/এফএস/এআই












