চবি প্রতিনিধি »
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনে জুনিয়র নেতা-কর্মীদের নিরুৎসাহিত করাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাখা ছাত্রলীগের বিজয় পক্ষের দুই উপপক্ষ সংঘাতে জড়িয়েছে।
বুধবারর (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলে এ ঘটনা ঘটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মো: জাহিদ নামে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।
এছাড়া সংস্কৃত বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মো. মুজাহিদ, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সাব্বির আহমেদ আহত হন।
এই ঘটনার পর বিভিন্ন সময় অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দেওয়ায় এবং জামায়াতের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতা আছে এমন অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সংস্কৃতি বিভাগের ১৫-১৬ বর্ষের শিক্ষার্থী মুজাহিদ চৌধুরীকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।
মুজাহিদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) কেন্দ্রের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জাকের আহমেদের ছেলে। সে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিজেকে ছাত্রলীগের নেতা বলে পরিচয় দেয়। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের কর্মী হিসেবে জাহির করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে মুজাহিদ চৌধুরীর বাবা জাকের হোসেন ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর থানা আমির। আর জামাত শিবিরের মদতেই সে বারবার বিশ্ববিদ্যালয় অশান্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ।
এইদিকে তার বাবা জাকের হোসেনের বিরুদ্ধে ভূমি দখল, লুটপাট, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদের অবৈধ ব্যবহার, মুক্তিযোদ্ধাকে হয়রানি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলাসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজে বাধা প্রদান করার মামলায় ২০১৬ সালের ৩ মে তাকে গ্রেফতার করে হাটহাজারী থানা পুলিশ। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ইতিপূর্বে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরখাস্তও করা হয়েছিল। চাকসুর বর্তমান দায়িত্বের আগে জাকের আহমদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার উপ-নিবন্ধক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই সময়টাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি নিজের নামে নিবন্ধন করা, অর্থের বিনিময়ে অন্যদের দখলে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ ছিল জাকের আহমেদের বিরুদ্ধে।
শাখা ছাত্র লীগের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ মুজাহিদ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জামাত শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। সে প্রতিনিয়ত ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। আর এসবের জন্যই তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে মুজাহিদ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি চলমান পরিক্ষা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কার্যালয়ে মারধর করে সমালোচিত হন। গত বছরের ২ অক্টোবর সমাজবিজ্ঞান অনুষদে কর্মরত আলমগীর নামে এক কর্মচারীকে মারধর করেন। এছাড়া চবির প্রকৌশল দফতরের প্রকৌশলীকে মুঠোফোনে হুমকি ও দফতরে তালা দেওয়ার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।এক ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মুজাহিদ চৌধুরী নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে। সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের মোড়ে মোহম্মদ রাশেদুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে সে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চবির সংস্কৃতি বিভাগের ১৫-১৬ বর্ষের শিক্ষার্থী মুজাহিদ চৌধুরীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কোন সাড়া মিলে নি।
এসব বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিজয় পক্ষের নেতা মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, আমি বিগত ১ বছর আগে মুজাহিদের জামায়াত সংশ্লিষ্টতার কথা জানতে পারি। তখন থেকে সে আমাদের নজরে ছিলো। সে বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিয়েছে। সে জাতীয় দিবসগুলোর অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগ কর্মীদের যেতে বাধা দিতো। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সে জুনিয়রদের যেতে না করে। এরমাধ্যমে তার জন্য জামায়াতে এজেন্ডা বাস্তবায়নের বিষয়টি ফুটে ওঠে।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগ ও শিবির এক সাথে চলতে পারে না৷ তাই তাকে এই ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো
চবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, কারও বিরুদ্ধে যদি কোন অভিযোগ থাকে তবে তার বিচারের জন্য যথাযত কতৃপক্ষ রয়েছে ; তাই কেউ তো তাকে মারধর করতে পারে না।
এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হোসেন ভূঁইয়া মহানগর হলের বাইরে তারা নিজেদের মধ্যে ঝামেলায় জড়িয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এই ঘটনায় কয়েকজন আঘাতপ্রাপ্তও হয়েছে। আমরা ঘটনার জড়িতদের শনাক্ত করে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
বাংলাধারা/এআই












