২৮ মার্চ ২০২৬

চসিক নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

বাংলাধারা প্রতিবেদন  »

মহামারীর বাধা আর সংঘাত-সহিংসতা পেরিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে ভোট দিয়েছেন বন্দরনগরীর বাসিন্দারা। এখন চলছে ভোট গণনা।

নির্বাচনী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগরীর ৭৩৫টি কেন্দ্রে বুধবার সকাল ৮টায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, শেষ হয়েছে বিকাল ৪টায়।

সকালে ভোটগ্রহণের শুরুতেই নগরীর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের কদম মোবারক এমওয়াই উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। একই ওয়ার্ডে মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি (এমইএস) উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন ভোটার এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সিটি করপোরেশনের নতুন মেয়র, ৩৯ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ১৪ জন নারী কাউন্সিলরকে নির্বাচিত করবেন।

নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী এবং বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহাদাত হোসেনের মধ্যে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ নির্বাচন গত বছরের ২৯ মার্চ হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় আট দিন আগে তা স্থগিত করা হয়। এরপর পরিস্থিতির উন্নতি বিবেচনায় ২৭ জানুয়ারি ভোটের দিন ঠিক করে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনী সহিংসতায় ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে চারজন নিহত হয়েছেন। ১৩ জানুয়ারি রাতে ২৮ নম্বর পাঠানটুলি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর এবং একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল কাদেরের সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত হন একজন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন আরও কয়েকজন। এছাড়া গত বছরের মার্চ মাসে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার আগে পাহাড়তলী সরাইপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও গতবারের কাউন্সিলর মোর্শেদ আক্তারের সমর্থক মো. তানভীর নিহত হন।

আর আজ নির্বাচনের দিন নগরের দুই জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনায় প্রাণ হারায় দুইজন।

ভোটগ্রহণে ৭৩৫ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৩৯ টি ভোটকেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্র হিসেবে চিহিৃত করেছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ৩০৬ ভোটকেন্দ্র সাধারণ হিসেবে চিহিৃত করা হয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে নজর বেশি রেখেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

মাঠে ছিলেন ৬৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ২০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে, বিজিবি প্লাটুন প্রতি একজন, র্যাব সিপিসির সঙ্গে তিন জন করে ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে ছিলেন।

ভোটগ্রহণে দায়িত্বে ছিলেন ১৬ হাজার ১৬৩ জন কর্মকর্তা। সকলকে ইভিএম বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৫ হাজার ৯০২ জন এবং পোলিং অফিসার ১০ হাজার ২৬৮ জন।

ব্রিটিশ আমলে গঠিত চট্টগ্রাম পৌর করপোরেশন সিটি করপোরেশনে রূপান্তরিত হয় ১৯৮৯ সালে। এরপর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন জাতীয় পার্টির নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। ১৯৯১-১৯৯৩ মেয়াদে বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এই পদে ছিলেন।

১৯৯৪ সালে প্রথম সিটি ভোটে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। টানা তিন বার তিনি ভোটে লড়ে জয়ী হয়ে মেয়রের চেয়ারে বসেন।

মহিউদ্দিন ২০১০ সালেও ভোটের লড়াইয়ে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম মনজুর আলমের কাছে প্রায় এক লাখ ভোটে পরাজিত হন।

মনজুর এক মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর আবার প্রার্থী হয়ে হারেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের কাছে।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে ভোট শুরুর তিন ঘণ্টার মধ্যে ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী মনজুর।

আ জ ম নাছির এক মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর এবার আর দলের মনোনয়ন পাননি।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন