তারেক মাহমুদ »
আসছে ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে মনোনয়নপ্রাপ্ত মেয়র ও কাউন্সিলরদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, জমাদান ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম। নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশন থেকে বৈধ ঘোষিত মেয়র ও কাউন্সিলররা প্রস্তুত হচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণার জন্য। ৯ মার্চ প্রতীক বরাদ্দের পর জোরেশোরেই মাঠে নামবেন তারা। এদিকে, বিগত পাঁচ বছরে মেয়র হিসেবে ব্যর্থতার চাদর মুড়িয়ে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হলেন আ জ ম নাছির। ব্যক্তিগত অনাগ্রহ দেখিয়ে আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রবেশ করলেন না বর্তমান শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। সবশেষ মেয়র পদে নৌকার টিকিট উঠলো নিঃসঙ্গ রেজাউলের হাতে। ১৯ জন কাউন্সিলরকে বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টিতে নবীনদের সুযোগ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। পাশাপাশি বিএনপিও দলীয় মনোনয়নে ক্ষমতাসীন দলের কৌশল অবলম্বন করেছে। তাই চসিক নির্বাচনে নতুন নেতৃত্বের আগমন ঘটায় চট্টগ্রামের রাজনীতিতে পালা বদলের হাওয়া লাগতে পারে বলে মনে করছেন নগর রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
এদিকে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড চসিক নির্বাচনে প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা সভা, সমাবেশে ও মিছিলের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তারা সবাই নগরবাসীর দরজায় গিয়ে গিয়ে ভোট চাইবেন। এখন থেকে সেভাবেই নিজেদেরকে প্রস্তুত করে নিচ্ছেন।
এদিকে, ঢাকার ব্যর্থতা ঘুচিয়ে চসিক নির্বাচনে নগরবাসীকে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে এবং ভোটের দিন ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছে নির্বচন কমিশন। কোন প্রকার অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না তারা। কোন প্রার্থী আচরণবিধি ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি চসিক নির্বাচনে ভোটের হার বাড়াতে এবার প্রচারণায় নামার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
মেয়র ও কাউন্সিলরদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে এবং দলের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মকান্ডের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে তারা সবাই একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন। আসন্ন চসিক নির্বাচনে কোন প্রকার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি না দিয়ে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডকে আধুনিকায়নের সাজে সজ্জিত করে একটি সুন্দর, পরিকল্পিত নগর উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।
নগর রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মনোনয়ন বাছাইয়ে নিরপেক্ষতা, নগর রাজনীতিতে নবীনদের প্রবেশের সুযোগ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা আসন্ন চসিক নির্বাচনের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। ভোটার উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করে নবীনদের জয়ী করে কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে। এই তরুণ নেতৃত্ব অনেক সৃজনশীল ধারণার জন্ম দিতে পারে। যার মধ্য দিয়ে শুধু একটি নগর নয়, পাল্টে যেতে পারে সমগ্র দেশ। সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করে জনগণকে সুন্দর ও পরিকল্পিত নগর উপহার দেয়ার এখনই সময়।
তরুণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভোট দেয়ার সুষ্ঠু পরিবেশ পেলে সৎ, যোগ্য প্রার্থীদের ভোট দিবেন তারা। যারা নগরের উন্নয়নে কাজ করতে চায়, যাদের মধ্যে গ্রুপিং রাজনীতি করার মনমানসিকতা নেই তাদেরকেই নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ করে দেবেন তারা। নেতৃত্বে পরিবর্তন ঘটলে নগর রাজনীতিতে আর দ্বন্দ্ব থাকবে না বলে বিশ্বাস তরুণ প্রজন্মের।
মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত রেজাউল করিম চৌধুরী বাংলাধারাকে বলেন, চট্টলবীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে থেকে রাজনীতি করতে গিয়ে আমি এটা উপলব্ধি করেছি যে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে উন্নত বাংলাদেশের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন; আমাদের রুপকল্প দিয়েছেন ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত বাংলাদেশ নির্মাণের। উন্নত বাংলাদেশের জন্য উন্নত বাণিজ্যিক রাজধানী প্রয়োজন। সেই উন্নত বাণিজ্যিক রাজধানী গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমি মনে করছি যে, এই সুযোগটা গ্রহণ করব। জনগণের কাছে যাবো। জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করে তাহলে বৃহত্তর পরিসরে বন্দরনগরীর ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে তাকে নিজ স্বকীয়তায়, স্বীয় মহিমায় প্রস্ফূটিত করব। চট্টগ্রাম নগরবাসীর জন্য একটি উন্নত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দেয়ার জন্য আমি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হলেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি ১৯৯৪ সালের ১১ মার্চ থেকে ২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি টানা ১৭ বছর মেয়র পদে ছিলেন। ২০১০ সালের নির্বাচনে এক সময়ের শিষ্য মনজুর আলমের কাছে পরাজিত হন। ২০১৫ সালের সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আ জ ম নাছিরের কাছে পরাজিত হন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলম।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












