১৮ মার্চ ২০২৬

চাঁদা না পেয়ে সহস্রাধিক লেবু গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার »

কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালায় এক কৃষকের ফলন আসা ৫ হাজার লেবু গাছ কেটে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ টিটুর দাবিকরা চাঁদা দিতে অপারগ হওয়ায় এসব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী কৃষক নজির আলমের দাবি। ফলন তোলার আগে গাছগুলো কেটে ফেলায় নিঃস্ব হয়ে গেছেন বলেও উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক।

তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে দখলকরা বনভূমি উদ্ধার করায় ক্ষুদ্ধ হয়ে মিথ্যে অভিযোগ করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী কৃষক নজির আলমের মতে, জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জের আওতাধিন সোনাইছড়ি খালের তীরে ৫ একর জমিতে ২০ বছর ধরে তিনি চাষাবাদ করে আসছেন। ওই এলাকায় একসময় তিনি তরমজু, মরিচসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করতেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেখানে অপহরণ ও ডাকাতদলের উৎপাত বাড়লে ৮ বছর পূর্বে সেখানে লেবু চাষ শুরু করেন। বর্তমানে সবকটি গাছে লেবুর ফলন আসতে শুরু করেছে। প্রতিটি গাছে ১০০ থেকে ৫০০টি পর্যন্ত লেবু ধরেছে।

নজির আলম আরো দাবি, তার এ সফলতা দেখে বন বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা-হেডম্যান তার কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত বৃহষ্পতিবার (২৯ জুলাই) সকালে জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ টিটু একদল ভাড়াটে লোকজন নিয়ে তার লেবু বাগানে গিয়ে পাঁচ হাজার লেবু গাছ কেটে ফেলেন। এতে তিনি অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

তিনি জানান, জীবনের সব সঞ্চয় ও ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে তিলে তিলে এ বাগান করা হয়েছিল। এখন সবকটি গাছ কেটে দেয়ায় একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি।

জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জ কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ টিটু চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সংরক্ষিত বনে বাগানটি সৃজন করায় কিছু গাছ কেটে বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। আরও যারা এভাবে বন দখল করে বাগান করেছেন তাদের বাগানও ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রামু উপজেলা শাখার সভাপতি মাস্টার মোহাম্মদ আলম বলেন, ফলবান গাছ কাটার চেয়ে বর্বরতা আর হতে পারে না। এলাকায় এ নিয়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এধরনের ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) তহিদুল আলম বলেন, বনভূমি উদ্ধারের স্বার্থে হাতেগোনা কিছু গাছ কাটা হয়েছে বলে জেনেছি। যদি কেউ চাঁদা না পেয়ে এমনটি করে থাকে বলে প্রমাণ পায় তবে, যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

আরও পড়ুন