২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাতরী চৌমুহনীতে হকারের দখলে সড়ক, যানজটে নাকাল পথচারী

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র চাতরী চৌমুহনী বাজারে চলাচল যেন দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। সড়কের দুই পাশে কাঁচাবাজার ও ফলমূলের ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানো, পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশার স্টেশন গড়ে ওঠায় প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারী ও যাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ব্যস্ততম চাতরী চৌমুহনী বাজারের পশ্চিম পাশের সিইউএফএল সড়কের বড় একটি অংশজুড়ে বিভিন্ন ধরনের কাঁচাবাজার ও পণ্যসামগ্রী নিয়ে বসেছেন ভ্রাম্যমাণ হকাররা। এতে সড়কটি অনেকটা সরু গলির মতো হয়ে গেছে। অবশিষ্ট সামান্য জায়গা দিয়েই শত শত যানবাহন চলাচল করায় প্রায় সময়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশেষ করে প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে কোরিয়ান ইপিজেড (কেএসআই) কারখানার ছুটির সময়ে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। এ সময় বাজারে দায়িত্ব পালন করা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের যানজট নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজি অটোরিকশার স্টেশন গড়ে ওঠায় যানজট আরও বেড়েছে। ফলে বাজারে আসা সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এভাবে একটি ব্যস্ততম বাজার চলতে পারে না। হকারদের কারণে ফুটপাত দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পথচারীদের সড়ক দিয়েই চলতে হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, ব্যস্ত সড়কে বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী নারীরাও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।

পথচারীরা বলেন, চাতরী চৌমুহনী দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র। আনোয়ারা ছাড়াও বাঁশখালী, চন্দনাইশসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। কিন্তু সড়কের ওপর ভ্রাম্যমাণ দোকান এবং যানবাহনের অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমানে বাজারে চলাচল করাই দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।

চাতরী বাজারে দায়িত্বে থাকা এক ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সড়কের প্রায় অর্ধেকজুড়ে হকাররা দখল করে রেখেছেন। এ কারণে বাজারে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিলে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ সহযোগিতা করবে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবু জাফর মজুমদার বলেন, চাতরী চৌমুহনী বাজারের সড়ক ও ফুটপাত দখলের বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

স্থানীয়দের দাবি, ব্যস্ততম এ বাজারের সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত রিকশার স্টেশন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত যানজট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

আরও পড়ুন