১২ মার্চ ২০২৬

চিত্রশিল্পী শফিকুল ইসলামের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

আজ শিল্পী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে কোন চিত্রশিল্পী হিসেবে প্রথম একক প্রদর্শনী করেছিলেন এই গুণী শিল্পী। যৌবনেই নানা চিত্রকর্ম আর লেখনী দিয়ে এই শিল্পী জায়গা করে নিয়েছিলেন শিল্পসমঝদারদের হৃদয়ে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে তার অনেক শিল্পকর্ম। ২০১৮ সালের এই দিনে ৭৪ বছর বয়সে নিভৃতচারী ও প্রচারবিমুখ এই মহান শিল্পী চিরনিদ্রায় শায়িত হন।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ১৯৪৪ সালে জন্ম নেন এই কীর্তিমান শিল্পী। চিত্রকলা আর শিল্পের সাথে তার প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অফ আর্টস এন্ড ক্রাফটসের মাধ্যমে। সেখান থেকে স্নাতক শেষে ১৯৭৪ এ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে লাভ করেন মাস্টার্স অফ ফাইন আর্টস ডিগ্রী। তারপরের ৩৩ বছর কেটে যায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগে শিক্ষকতা করে। এ সময় তিনি বিভাগের চেয়ারম্যান ও এ.এফ রহমান হলের প্রভোস্টের দায়িত্বও পালন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শহিদ মিনারের নকশা করার পাশপাশি চারুকলা বিভাগের অনেক পরিবর্তনই হয়েছে তাঁর হাত ধরে।

তবে সহকর্মী আর পরিবারের চোখে দেখা শিক্ষক শফিকুলকে বরাবরই ছাপিয়ে গেছেন শিল্পী শফিকুল। শিক্ষকতার সীমা আর প্রাতিষ্ঠানিক গন্ডির মাঝে অসীম হওয়ার বাসনায় তাঁকে লালন করত সবসময়।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম হিসেবে কোন একক শিল্পকর্ম নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করেন এই শিল্পী। তখনকার চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ অফিসে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জেনারেল ওসমানী। এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের ওই সময়কার আওয়ামী লীগ নেতা ও বংগবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এমএ আজিজ।

শিল্পগুণ, প্রজ্ঞা আর মননে বাংলাদেশের শিল্পকলার গণ্ডিকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করতে অবদান রাখেন এই শিল্পী। তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবনে দেশে ও বিদেশে তিনি চারটি একক প্রদর্শনীসহ মোট উনিশটি চিত্র প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত হয় তার লেখা মৌলিক গ্রন্থ ‘প্রাচ্যরীতির শিল্প’। মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রচারবিমুখ এই শিল্পীকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন বিখ্যাত কার্টুনিস্ট ও চিত্রকর রফিকুন নবীসহ দেশের অনেক প্রথিতযশা চিত্রী ও শিল্পী। এছাড়া সাবেক সহকর্মী, পরিবারের সদস্যরাও তাঁর আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন