১৩ মার্চ ২০২৬

চিরনিদ্রায় শায়িত বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম

কক্সবাজার প্রতিনিধি »

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও পেশার ক্যারিয়ার থাকলেও বিশ্ব মহামারি করোনার কালো ছায়ার কারণে নিরবে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, গণপরিষদের সাবেক সদস্য, সাবেক সাংসদ, বারকাউন্সিলের একাধিক বারের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী এবং কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামকে।

স্বজন, প্রতিবেশী ও জেলা প্রশাসনের সীমিত পরিসরে অংশগ্রহণে জানাজা শেষে তাকে কক্সবাজার পৌরসভার বায়তুশ শরফ এলাকার বইল্লাপাড়া কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশে সমাহিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা ৩টার দিকে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ ময়দানে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগেরদিন সোমবার (১৮ মে) বিকেল পৌনে ৩টায় চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে বড় ছেলে ব্যাংকার জাহেদুল ইসলামের বাসায় ইন্তেকাল করেন তিনি। মৃত্যুকালে ৮১ বছর বয়সী প্রবীণ এ আওয়ামী লীগ নেতা দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন ধরনের বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।

স্বাধীনতা পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে আওয়ামীলীগের জন্য নিবেদিত প্রাণ নিরহংকারি এ নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে পৃথক বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শোক জানিয়েছেন। তারা স্বাধীনতা পূর্ব ও পরবর্তী সময় বিশেষ করে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের আগে-পরে দলের পুনর্গঠনসহ দেশের ক্রান্তিলগ্নে অ্যডেভোকেট জহিরুল ইসলামের অবদানের কথা স্মরণ করে আওয়ামীলীগ তথা দেশ একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক নেতাকে হারালো বলে মন্তব্য করেন। শোক জানিয়েছেন বার কাউন্সিল চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান, সুপ্রীম কোর্ট বারের সভাপতি-সম্পাদকও।

মৃত্যুরদিন (সোমবার) বাদ মাগরিব চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (১৯ মে) বাদ জোহর দ্বিতীয় জানাজার জন্য তাকে বেলা ২টার দিকে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ মসজিদ প্রাঙ্গণে আনা হয়। সেখানে রাষ্ট্রের পক্ষে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন ও পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের নেতৃত্বে তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জেলা আওয়ামীলীগ, জেলা আইনজীবী সমিতি।

কুতুবদিয়া-মহেশখালী আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিকের সঞ্চালনায় এর আগে মরহুমের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, সদর-রামু আসনের সাংসদ সাইমুম সরোয়ার কমল, জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান, বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহা-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, জেলা বারের সভাপতি আ.জ.ম মঈন উদ্দিন, মরহুমের মেঝ ছেলে জেলা আওয়ামীলীগ নেতা রাশেদুল ইসলাম, বড় ছেলে ব্যাংকার জাহেদুল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও মুক্তিযদ্ধের সংগঠক। এছাড়াও ছিলেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য, কক্সবাজার জেলার প্রথম গর্ভনর, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কর্ম পরিষদ সদস্য, কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির একাধিক বারের সভাপতি, গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের আজীবন সভাপতি। এছাড়াও একাধিক বার দায়িত্বপালন করেছেন বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে। এসময় তিনি লোভের উর্ধে উঠে দেশ এবং জনগণের সেবা করেছেন। তার আদর্শ লালিত হলে তাকে সম্মান জানানো হবে, এমনটি দাবি করেন তারা।

পিতার নির্লোভতার ব্যাখ্যা দিতে দিতে বড় ছেলে জাহেদুল ইসলাম বলেন, ওনার রাজনৈতিক ও কর্মময় জীবন পর্যালোচনা করলে ভেসে উঠে জীবনের অধিকাংশ সময় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। কিন্তু বায়তুশ শরফ এলাকার স্বল্প পরিমাণের জমির উপর ঘরটি ছাড়া দেশের কোথাও তার নামে একখন্ড জমি নেই। স্ত্রী, সন্তান কিংবা স্বজনদের নামে-বেনামে কোথাও জমি লীজও নেননি একখন্ডও। কারণ, বঙ্গবন্ধুর মতোই রাজনৈতিক ও পেশার সহকর্মী এবং আপামর জনগণকেই তিনি নিজের সম্পদ বলে মনে করতেন। সংগ্রাম করে সৎভাবে জীবনকে কিভাবে সাজাতে হয় তিনি তা সন্তানদের শিখিয়ে গেছেন। তাই তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সুনাম ছাড়া সন্তানরা তার কাছ থেকে আর কিছুই পায়নি। অবশ্য এটা লক্ষ-কোটি টাকা বিত্তের চেয়ে হাজারগুণ বড়।

করোনার কারণে তার জানাজায় লোকসমাগম বেশি হতে দেয়নি প্রশাসন। জানাজাস্থলের চতুর্থপাশের পথে ব্যরিকেট সৃষ্টি করে অসংখ্য মানুষকে আটকে দেয় শৃংখলাবাহিনীর সদস্যরা। বায়তুশ শরফের মাওলানা মোহাম্মদ শফির ইমামতিতে জানাজায় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান কায়সারুল হক জুয়েল, পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান, মেয়রসহ রাজনৈতিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

জীবনকালে অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম ‘আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনীতি’ নামের একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। মৃত্যুকালে ৩ ছেলে, ৩ মেয়ে, স্ত্রীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও অনুসারী রেখে গেছেন তিনি। তার বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় একটি গুরুত্ব পূর্ণ পদে চাকরি করেন। তার মৃত্যুতে শোক ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে বিভিন্ন মহল।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ