২১ মার্চ ২০২৬

চীনের চলচ্চিত্র উৎসবে ‘মায়ার জঞ্জাল’

বাংলাধারা ডেস্ক »

দীর্ঘ দেড় দশক পর চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের এক সময়কার জনপ্রিয় নাট্য তারকা অপি করিম। নাম ‘মায়ার জঞ্জাল’। এটি কলকাতার ছবি। পরিচালক ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী। ছবিতে অপি করিমের বিপরীতে অভিনয় করেছেন ঋত্বিক চক্রবর্তী। ‘মায়ার জঞ্জাল’ মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল মাস দুয়েক আগে। কিন্তু তার আগেই সারা বিশ্বে করোনা মহামারী হানা দেয়ায় ভেস্তে যায় সেই পরিকল্পনা।

করোনায় সবকিছু স্থবির থাকলেও মাঝেমধ্যেই নতুন খবর আসছে শোবিজ অঙ্গনে- কলকাতায় মুক্তির আগেই অপি করিম ও ঋত্বিক চক্রবর্তী অভিনীত ‘মায়ার জঞ্জাল’ প্রদর্শিত হতে চলেছে চীনের সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। সাংহাই প্রদেশের শিনাংয়ে আগামী ২৫ জুলাই থেকে শুরু হবে এই উৎসব। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানান ‘মায়ার জঞ্জাল’ ছবির বাংলাদেশি প্রযোজক জসীম আহমেদ। তিনি ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ছবিটি প্রযোজনা করেছেন।

জসীম আহমেদ বলেন, ‘আসরে এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ডের অফিসিয়াল সিলেকশনে জায়গা করে নিয়েছে আমাদের ‘মায়ার জঞ্জাল’। এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ডস বিভাগের প্রধান ই-মেইলে খবরটি নিশ্চিত করেছেন। এরপর তো ডিসিপি ডেলিভারিসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার পেছনে বেশ ব্যস্ততা গেছে। কাজেই আমরা খুব আনন্দিত যে ‘এ’ গ্রেডের তালিকাভুক্ত একটি উৎসবে আমাদের ছবিটির প্রিমিয়ার হতে যাচ্ছে।’ 

তবে করোনার কারণে সাংহাইয়ের আসরে এবার কোনো আন্তর্জাতিক জুরিকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। শুধু সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা ছবিগুলোই এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ড অফিসিয়াল সিলেকশন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আসরে সাধারণত সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা, সেরা অভিনেত্রী, সেরা চিত্রনাট্যকার ও সেরা চিত্রগ্রাহক বিভাগে পুরস্কার দেয়া হয়। কিন্তু এবার অফিসিয়াল সিলেকশন হিসেবে সম্মান জানানো হচ্ছে নির্বাচিত প্রতিটি ছবিকে।

এদিকে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে ‘মায়ার জঞ্জাল’ ছবির পরিচালক-প্রযোজক এবং অভিনয়শিল্পীদের সাংহাইয়ে আমন্ত্রণ জানাতে পারছেন না চলচ্চিত্র উৎসবটির আয়োজক কমিটি। তবে উৎসব চলাকালে ছবির প্রচারনা চালাবেন তারা। পরিচালক ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ছবিটি উৎসবে নির্বাচিত হয়েছে, সেখানে দেখানো হবে, ভালো প্রচার হবে। এই বিষয়গুলো আশীর্বাদের মতো। আর কিছুর দরকার নেই।’

মডেলিং দিয়ে শুরু করে অল্প সময়েই নাটক, টেলিফিল্মে পোক্ত জায়গা করে নেন অপি করিম। তিনি বহু দর্শকনন্দিত নাটকে অভিনয় করেছেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠান উপস্থাপনা, মঞ্চে অভিনয়, নাচ, সিনেমা এসবেও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন অপি। ২০০৪ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ ছবিটি দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়েছিল অপি করিমের। এরপর আর তাকে বড়পর্দায় দেখা যায়নি। ১৫ বছর পর কাজ করলেন ভারতের ‘মায়ার জঞ্জাল’-এ। এখানে অপির চরিত্রটির নাম সোমা। মেয়েটি কলকাতার, বিবাহিতা। স্বামী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তার সংসার। কিন্তু স্বামী বেকার। এ অবস্থায় সোমা কিভাবে জীবনযুদ্ধে বেঁচে থাকেন তাই নিয়ে ছবির গল্প।

অপি করিম অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘সকাল সন্ধ্যা’, ‘শুকতারা’, ‘আপনজন’, ‘সবুজ গ্রাম’, ‘তিথির সুখ’, ‘অক্ষয় কোম্পানির জুতা’, ‘ছায়া চোখ’, ‘জলছাপ’, ‘সাদাআলো সাদাকালো’, ‘যে জীবন ফড়িংয়ের’, ‘উত্তম-সুচিত্রা’, ‘মান-অভিমান’, ‘এ শহর মাধবীলতার না’ ও ‘অবাক ভালোবাসা’ ইত্যাদি।

দেশের শোবিজ অঙ্গনের নন্দিত অভিনেত্রী অপি করিমের শূন্য দশকে আত্মপ্রকাশ এবং সাফল্য। ১৯৯৯ সালে লাক্স ফটোজেনিক প্রতিযোগিতায় ‘মিস ফটোজেনিক’ খেতাব অর্জন করেন ছোটপর্দা কাঁপানো জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। কী মঞ্চ, কী টিভি নাটক অথবা চলচ্চিত্র এমনকি নাচ- সব ক্ষেত্রেই তার দ্যুতি ছড়ানো প্রতিভা। তার প্রাণবন্ত হাসি যেন দর্শকদের মন ভরিয়ে দেয়। দর্শকদের কাছে অপি সতেজ অনুভূতির নাম।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন