চবি প্রতিনিধি »
ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের দু’দিনব্যাপী ৩১তম সম্মেলন শুরু হয়েছে।
বৃহঃস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জারুলতলা প্রাঙ্গনে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সংগঠনটির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রুহিন হোসেন প্রিন্স। আগামীকাল চবি সংসদের নতুন কমিটি ঘোষণা দেয়ার কথা রয়েছে।
এবারের সম্মেলনের শিরোনাম ‘পূর্ণাঙ্গ আবাসন-পরিবহন সুবিধা ও গবেষণাবান্ধব মুক্তবুদ্ধি চর্চার গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস চাই।’ শাখা সভাপতি ধীষণ প্রদীপ চাকমা সম্মেলনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স।
শাখা সাধারণ সম্পাদক গৌরচাঁদ ঠাকুরের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল। তিনি বলেন, কেবল সার্টিফিকেট প্রদানই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে পরিণত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব হচ্ছে জ্ঞান তৈরি আর হাজার বছরের অর্জিত জ্ঞান ছাত্রদের মাঝে বিতরণ করা। অথচ শিক্ষকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস না নিয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সময় দিচ্ছেন। ৭৩’র বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ বোধহয় শিক্ষকরা পড়েও দেখেন না।
চবি ক্যাম্পাসের সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা হওয়ার কথা ছিল বিশ্বমানের। অথচ শাটলে ঝুলে, ঘর্মাক্ত শরীর নিয়ে ক্যাম্পাসে আসি আমরা। ক্যান্টিনের উচ্চমূল্য আর আবাসিক সঙ্কট তো রয়েছেই। কেননা সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে গত কয়েক দশক আগে শাটলে যে পরিমাণ বগি ছিল, সেটি আর বাড়ানো হয়নি। অথচ বর্তমানে শিক্ষার্থী বাড়লেও উলটো মান কমেছে শাটলের।
তিনি আরো বলেন, বাজেটে ৪কোটি ২০ লাখ টাকা গবেষণা খাতে রাখা হয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের মাথাপিছু পড়ে এক হাজার ৯০০টাকা। অন্যদিকে তা যদি কেবল শিক্ষকদের পেছনে ব্যয় করা হয় মাথাপিছু পড়বে ৫২হাজার ৫০০ টাকা। অথচ এই নগণ্য গবেষণা বরাদ্দের স্তুতি গাইতে ব্যস্ত মিডিয়াগুলো। মোট বাজেটের ৩০-৪০ ভাগ গবেষণা খাতে বরাদ্দ দিতে হবে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে মেহেদী হাসান নোবেল বলেন, গণতন্ত্রহীণ ব্যবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ পরিচালিত হচ্ছে। ভিসিরা আকন্ঠ দূর্নীতে নিমজ্জিত। ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে ছাত্র ইউনিয়ন দূর্নীতি বিরোধী আন্দোলন পরিচালনা করছে। ইস্পাত-সম এই সংগ্রাম সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বাংলাদেশের মানুষ লোভ আর ভয়ের রোগে আক্রান্ত। সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সবার মাঝে আমিত্ব ঢুকে গেছে। তাই কিছু করতে গেলেই লোভ আর ভয় চেপে ধরছে। বর্তমানে সর্বত্র ঘুষ, দূর্নীতি, লুটপাট আর দূর্বৃত্তায়ন প্রবেশ করেছে। যার অন্যতম ক্যাসিনো ব্যবসার অপসংস্কৃতি এখন সবার সামনে উন্মুক্ত।
দেশের বিদ্যমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের সাড়ে চার কোটি মানুষ এখনো অর্ধাহারে জীবন যাপন করছে। সংখ্যালঘু আর পাহাড়ে নির্যাতন চলছে নির্বিচারে। অথচ মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল ধর্মীয় পরিচয়ের উর্ধ্বে উঠে সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে গণতান্ত্রিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করণে ছাত্র ইউনিয়নের নতুন নেতৃত্বের প্রতি আহবান জানান তিনি।
অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সংসদের কোষাধ্যক্ষ জয়চন্দ্র রায়,সদস্য আতিক রিয়াদ, রাঙ্গামাটি সংসদের সভাপতি অভিজিৎ বড়ুয়া, শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবা জাহান রুমি প্রমুখ।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর/এএ












