বাংলাধারা প্রতিবেদন»
দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক শামীমা আতিকউল্লাহ খানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইবুন্যাল আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। রবিবার সকালে জনাকীর্ণ আদালতে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস. কে. এম. তোফায়েল হাসান দীর্ঘ সময় বাদীর আরজী শুনানীর পর মামলাটি আমলে নিয়েছেন। শুনানী শেষে বিচারক মামলাটি কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। এ মামলা দায়ের করেছেন গ্লোব-জনকন্ঠ শিল্প পরিবারের সাবেক নির্বাহী পরিচালক তোফায়েল আহমদ।
সাইবার ট্রাইবুন্যাল আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামীদের ৪ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ(মামলা নং-৯৫/২১) মামলা দায়ের করেছেন বাদী। এ মামলার কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে গত ৩০ জুন ই-জনকন্ঠ অনলাইন পত্রিকার প্রথম পাতায় ‘আস্তিনের সাপ’ (www.ejanakantha.com) শিরোনামে একটি ‘জনকন্ঠ রির্পোট’ প্রকাশিত হয়েছে। যাতে সংবাদপত্র প্রকাশনা ও প্রচারনার বিধিমালাকে মারাত্মকভাবে অবমানানা করা হয়েছে।এমনকি জনকন্ঠ রিপোর্ট লিখে রিপোর্টারকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এই রির্পোটে বাদীকে সামাজিক ও মানসিকভাবে অসম্মানি করে ৪ আসামীর যৌথ সংশ্লিষ্টতায় বিশ্বব্যাপী সংবাদটি ই-জনকন্ঠের মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এমনকি এ সংবাদটি দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকায় গত ৩০ জুন প্রকাশিত হয়েছে। এ মামলায় দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক শামীমা আতিকউল্লাহ খান, প্রধান বার্তা সম্পাদক কামরুল ইসলাম খাঁন, বার্তা সম্পাদক মোহাম্মদ হামিদুজ্জামান ও উপ-সম্পাদক মোয়াজ্জেমুল হককে আসামী করা হয়েছে।

আরো জানা গেছে, এর আগে গত ১৬ আগস্ট গ্লোব-জনকন্ঠ শিল্প পরিবারের চেয়ারম্যান ও দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক শামীমা আতিকউল্লাহ খানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়ের হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমানের ৬ষ্ঠ আদালতে এ মামলা দায়ের করেছেন গ্লোব-জনকন্ঠ শিল্প পরিবারের সাবেক নির্বাহী পরিচালক তোফায়েল আহমদ।
চট্টগ্রাম আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে মামলার বাদীকে সাসপেন্ড ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করায় গত ১৬ আগস্ট ৬ জনের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ তোলা হয়েছে। সি.আর মামলা (নং-১৪০/২১)এ ফৌজদারী দন্ডবিধির ৫০০/৫০১/৫০২/৩৪ ধারার বিধান মতে আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগটি আনায়ন করেছেন বাদী পক্ষের ও চট্টগ্রাম আদালতের এডভোকেট ইকবাল হোসেন মাহবুব। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি ‘পুলিশ ব্যুারো অব ইনভেষ্টিগেশন(পিবিআই)’ চট্টগ্রাম মেট্রো’কে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলায় গ্লোব-জনকন্ঠ শিল্প পরিবারের চেয়ারম্যান ও দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক শামীমা আতিকউল্লাহ খান, পরিচালক মিশাল আতিকউল্লাহ খান ও জিশাল আতিকউল্লাহ খান, নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, হিসাব বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোস্তাক আহমেদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী ও গ্লোব-জনকন্ঠ শিল্প পরিবারের সাবেক নির্বাহী পরিচালক তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘আমি ৩২ বছর গ্লোব-জনকন্ঠ শিল্প পরিবারে চাকুরী করেছি। দীর্ঘ এ সময়ে গ্লোব-জনকন্ঠ শিল্প পরিবারের তথা প্রতিষ্ঠানের কোনো ক্ষতি করিনি, এমনকি প্রয়াত চেয়ারম্যান ও সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান কখনও আমাকে জড়িয়ে কোনো দুর্নীতির প্রশ্ন তোলেন নি। অথচ বর্তমান চেয়ারম্যান ও অন্যান্য আসামীদের নীল নকশায় আমাকে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে সাসপেন্ড করা হয়েছে।আমার সার্ভিস বেনেফিট না দিতে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি মিথ্যা মামলার মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে যা সংবাদপত্র ও প্রকাশনার বিধি বর্হিভূত। ‘আস্তিনের সাঁপ’ শিরোনামে মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করে আমাকে সমাজ ও আত্মীয়স্বজনের কাছে হেয় করেছে এমনকি আমি যেন অন্য কোনো বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ না পাই সে ব্যবস্থা করেছে আসামীরা। ফলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করতে বাধ্য হয়েছি।‘
বাংলাধারা/এফএস/এফএস












