ফিশিং ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুর হামলার শিকার হয়েছেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পূর্ব গহিরা এলাকার মাঝি-মাল্লারা।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজার জেলার গভীর সমুদ্রের মাঝামাঝি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে এক মাঝি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং অন্তত ১১ জন মাঝি-মাল্লা আহত হয়েছেন।
এ সময় জলদস্যুরা তিনটি ফিশিং ট্রলার থেকে জ্বালানি, মাছ ধরার সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
গুলিবিদ্ধ মাঝি হলেন আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড গহিরা এলাকার মৃত ছিদ্দিক আহমেদের পুত্র মনি মাঝি (৫৮)। তিনি পূর্ব গহিরা তেলিপাড়ার মো. জসিম কোম্পানির মালিকানাধীন একটি ফিশিং ট্রলারে কর্মরত ছিলেন। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যান্য আহতরা হলেন মোহাম্মদ হেফাজ মাঝি, আবুল হাসেম, মোহাম্মদ জিয়াউল হক, মোহাম্মদ আবুল কাশেম, আবদুর রহমান, মোহাম্মদ আরফাত, মোহাম্মদ জাবেদ, মোহাম্মদ ফরিদ, মোহাম্মদ আবদুল জব্বার ও মোহাম্মদ মিজান।
ভুক্তভোগী মাঝি-মাল্লারা জানান, মো. হেফাজ কোম্পানি ও মো. কাশেম কোম্পানির মালিকানাধীন আরও দুটি ফিশিং ট্রলার জলদস্যুর কবলে পড়ে। এ সময় ট্রলারে থাকা মাঝি-মাল্লাদের মারধরসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে ট্রলারগুলোর জ্বালানি, জাল ও মাছ ধরার অন্যান্য সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায় জলদস্যুরা।
হামলার শিকার একটি ট্রলার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে উপকূলে ফিরে আসে। অন্য দুটি ট্রলারও বুধবার বিকেল নাগাদ আনোয়ারা উপকূলে ফিরে এসেছে বলে জানান তারা। জলদস্যুরা নিজেদের বাঁশখালী উপজেলার হাটখোলা, গন্ডামারা এবং কুতুবদিয়া ও মহেশখালী এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছে। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মহিউদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার রাতে মাছ শিকারে গিয়ে তিনটি ট্রলার জলদস্যুর কবলে পড়ে। এতে মনি নামের এক মাঝি গুলিবিদ্ধ হন এবং আরও ৯–১০ জনকে মারধর করা হয়। জলদস্যুরা ট্রলারগুলোর জ্বালানি ও সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে বার-আউলিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মো. কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার জেলাধীন গভীর সমুদ্র এলাকায়। আমরা বিকেলে গহিরা এলাকায় গিয়ে ঘটনার উপাত্ত সংগ্রহ করেছি এবং আহত জেলে ও একজন মাঝির সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।













