১৩ মার্চ ২০২৬

জুন মাসে ৩৫৮ টি সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ৩৬৮

বাংলাধারা প্রতিবেদন »  

করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সীমিতভাবে গণপরিবহন চললেও থেমে নেই সড়ক দুর্ঘটনা। গত জুন মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৫৮টি। এতে নিহত হয়েছেন ৩৬৮ জন এবং আহত ৫১৮ জন।

রোববার (১২ জুলাই) দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক, অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

জুন মাসে সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ১৬২ জন চালক, ১২৫ পরিবহন শ্রমিক, ১১৩ পথচারী, ৬২ নারী, ৫৭ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ২১ বিজিবি, ১৮ আনসার, ১৩ পুলিশ ও পাঁচজন সেনাবাহিনীর সদস্য, ২৮ শিশু, ২৩ শিক্ষার্থী, ১১ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ৭ শিক্ষক, একজন চিকিৎসক, একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন প্রকৌশলী রয়েছে।

এসব দুর্ঘটনায় ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ২৪ দশমিক ১৫ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১২ দশমিক ১ শতাংশ বাস, ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ নছিমন-করিমন, ৮ দশমিক ১১ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৭ দশমিক ১৫ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় ৮ জুন। ওই দিনে ২২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয় ১০ জুন। ৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়।

মোট দুর্ঘটনার ৫১ দশমিক ১২ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ২৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ খাদে পড়ে, ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ বিবিধ কারণে, ১ দশমিক ১২ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষ এবং ০ দশমিক ৫৬ শতাংশ চাকায় ওড়না পেছিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

পরিসংখ্যানে দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এমাসে মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৪৮.৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ৩১.৫৬ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ১৩.৯৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়। এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ২.৭৯ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ১.৯৫ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ১.১২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়।

মে মাসের তুলনায় জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনা ৫৬ দশমিক ১৪ শতাংশ, নিহত ৫৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ ও আহতের হার ৪৩ দশমিক ৮২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মে মাসে ২১৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাতে প্রাণ হারিয়েছেন ২৯২ জন। এছাড়াও আহত হয়েছেন আরও ২৬১ জন। নিহতের মধ্যে ৩৯ জন নারী ও ২৪ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া ৯টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত ও ১৭ জন নিখোঁজ হয়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি মনে করে, সড়ক নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি ও জবাবদিহীতার অভাবে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বাড়ছে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ