জেদ্দা প্রতিবেদন »
সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত কাউন্সেলর (পাসপোর্ট ও ভিসা ) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান এর বিরুদ্ধে প্রবাসীদের হয়রানিসহ জামায়াত সংশ্লিষ্টতার নানা অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সংবলিত একটি চিঠি জেদ্দায় বসবাসরত প্রবাসীদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয় ।
চিঠিতে বলা হয়েছে , এর আগেও মুহাম্মদ কামরুজ্জামান এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠায় তার স্থলে আবু লায়েসকে পদায়ন করা হয়। কিন্তু কামরুজ্জামান নানা ছলে বলে কৌশলে স্বপদে বহাল রয়েছেন।
কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট, সরকারি গাড়ির অপব্যবহার, সময়মত পাসপোর্টে স্বাক্ষর না দেওয়া, প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাসপোর্ট নিয়ে হয়রানি, জামাত-শিবিরের লোকদের সাথে সখ্যতার অভিযোগ রয়েছে ।
এছাড়া মন্ত্রণালয়ের যথাযথ অনুমতি ব্যতিরেখে তাবলীগ জামাতের সাথীদের সাথে জর্ডান , তুরস্ক, মিশর ও দুবাই সহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন যার ফলে দূতাবাসের দাপ্তরিক কাজের ব্যাঘাত ঘটে এবং প্রবাসীদের ভোগান্তি চরমে উঠে। তাবলীগ জামাতের ছদ্মবেশের মাধ্যমে সদ্য সাবেক মন্ত্রীপরিষদ সচিব এর সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে ক্ষমতার দাপট দেখাতে শুরু করে ।
অভিযোগ আছে, তার পরিবার মূলত জামাত রাজনীতির সাথে যুক্ত। সে নিজেও ছাত্রশিবিরের সাথে যুক্ত ছিল। জামাত নেতাদের সুপারিশে ২৪ তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করে। তার পিতা যশোরের আনু রাজাকার নামে পরিচিত এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনু রাজাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে।
কামরুজ্জামান বিভিন্ন সময় জামাত শিবেরের লোকদের সাথে জেদ্দায় মিটিং করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে লালখান বাজারে বোমা হামলা মামলার আসামী মুফতি ইজাহারের সাথে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। জেদ্দায় জামাতের ফাইনান্সার আব্দুল মান্নান ও আব্দুর রহমানের সাথে সখ্যতা ওপেন সিক্রেট।
তার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেও কোন ফল না হওয়ায় কনসাল জেনারেল তদারকি কমিটি গঠন করেন। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয়নি। বদলির আদেশ পেলেও সে বহাল তবিয়তে রয়েছে।
এই বিষয়ে কথা বলতে কামরুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার ব্যবহৃত মুঠোফোনের নাম্বারে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
বাংলাধারা/এফএস/এআর










