বাংলাধারা প্রতিবেদন »
জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৪ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তাঁকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সিলেটে সমাহিত করা হয়।
ওসমানীর গ্রামের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জে। তাঁর জন্ম ১৯১৮ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর পিতা খান বাহাদুর মফিজুর রহমানের কর্মস্থল সুনামগঞ্জে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালিন মুক্তিবাহিনী এবং সেনা বাহিনীর প্রধান ছিলেন মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী। যিনি এম এ জি ওসামনী নামে পরিচিত।
১৯৩৮ সালে শিক্ষা জীবন শেষে বৃটিশ আর্মিতে যোগ দেন ওসমানী । ভারতের দেরাদুনে ব্রিটিশ – ভারতীয় মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৪০ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে কমিশনড অফিসার হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেসময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছিলো। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একটি ব্যাটেলিয়ানের কমান্ডার হিসেবে বার্মা সেক্টরে কাজ করেন। ১৯৪২ সালে মেজর পদে উন্নীত হন। বাঙালিদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মেজর ছিলেন ওসমানী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে থাকাকালে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। চট্টগ্রাম সেনানিবাসের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। ১৯৬৭ সালে কর্নেল হিসেবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান হিসেবে অসামান্য কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন ওসমানী। স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর তাকে বাংলাদেশ আর্মড ফোর্সের জেনারেল পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯৭২ সালে দায়িত্ব থেকে অবসর নিয়ে বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেন তিনি। ১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচনেও নির্বাচিত হন। তবে পরের বছর মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। পরে বাকশাল গঠনের প্রতিবাদে ১৯৭৫ সালে সংসদ সদস্য পদ ও আওয়ামী লীগের সদস্যপদ ত্যাগ করেন। সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৯ অগাস্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পদে নিয়োগ পান ওসমানী। তবে ৩ নভেম্বর জেলহত্যার ঘটনার পর ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৭৬ সালে জাতীয় জনতা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন জেনারেল ওসমানী।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












