কক্সবাজার প্রতিনিধি »
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদীর বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
গত ১৫ জুন জারি করা পরোয়ানা কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের কাছে পাঠিয়েছেন আদালত। কিন্তু পরোয়ানা মাথায় নিয়েই কক্সবাজার জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় যোগ দিয়ে দিব্যি বক্তব্যও রেখেছেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী।
একজন পরোয়ানা ভুক্ত জনপ্রতিনিধি জেলার গুরুত্বপূর্ণ সভায় শৃংখলা বাহিনীর জেলা প্রধানদের সাথে অংশ নেয়াকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার ও চকরিয়ায় নানা গুঞ্জন চলছে। সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নখানে।
এদিকে, একমাস আগে পুলিশ সুপার বরাবর প্রেরণ করা পরোয়ানাটির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়ালেও জেলা পুলিশের কাছে না পৌঁছানোও নানা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অবশ্য, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চকরিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ সুপার।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট আদালত সূত্র জানায়, চকরিয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাসষ্টেশন এলাকার মৃত ইছাক কন্ট্রাক্টরের ছেলে ফজলুল করিম সাঈদী ও তার সহযোগি উপজেলার উত্তর লক্ষ্যারচর এলাকার সোলায়মানের ছেলে সাহাব উদ্দিন ঢাকার বাইতুল মোকারম এলাকায় আর্মস এন্ড কোম্পানি নামের একটি অস্ত্রের দোকান থেকে অস্ত্র ক্রয় করতে যান ২০১৪ সালের ৭ মে। দাম নিয়ে বনিবনা না হলে সাঈদী সহযোগীকে নিয়ে চলে যান।
বিকাল ৫টায় সাঈদীরা আবারও ঐ দোকানে যান। কিন্তু সাঈদীর উপস্থাপন করা অস্ত্র লাইসেন্সটি ফেক বলে মনে হলে দোকানী কৌশলে তাদেরকে দোকানে বসিয়ে রাখে। বিষয়টি পল্টন পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থলে এসে সহযোগীসহ সাঈদীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পরে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে ঢাকার পল্টন থানা (মামলা নং-১২/২০১৪) পুলিশ। এ মামলায় কারাবরণ করার পর জামিনে বের হয়ে আসেন সাঈদী। কিন্তু, আদালতে নিয়মিত হাজির না থাকায় তার বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৫ জুন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন। সেই ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়ে সব জায়গায় প্রকাশ্যে ঘুরছেন সাঈদী। আর প্রশাসনও রহস্যজনক কারণে তাকে গ্রেপ্তার করছে না বলে অভিযোগ ওয়াকিবহাল মহলের।
জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান জানান, ফজলুল করিম সাঈদীর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট এখনও থানায় পৌঁছেনি। পরোয়ানা পেলে তাকে গ্রেপ্তার করা যেত।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদীর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টেরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেরাচ্ছে। এটি পুলিশ সুপার বরাবর প্রেরিত বলে দেখা গেলেও জেলা কিংবা চকরিয়া থানাতে পরোয়ানাটি পৌঁছেনি। খবর পেয়েছি চেয়ারম্যান সাঈদী জামিনে রয়েছেন। এরপরও ওয়ারেন্টটি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে চকরিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রোববার (১৪ জুলাই) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আশরাফুল আফসারের সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো. শাজাহান আলী, সিভিল সার্জন ডা. আবদুল মতিন, জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা এবং সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান, মোহাম্মদ আলী, কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন কবির, চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি এডভোকেট দীপংকর বড়ুয়াসহ অন্যান্য বক্তব্য রাখেন।
সভায় জেলার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক পাচার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, বাঁকখালী নদীর তীরবর্তী স্থান ও সমুদ্র সৈকতে অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া, নির্মানাধীন কলাতলী সড়ক দ্রুত মেরামতকাজ সম্পন্নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।
সেই সভায় অস্ত্র আইনে হওয়া মামলায় পরোয়ানা থাকা সাঈদীর উপস্থিতি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০১৪ সালের ৭ মে ঢাকার পল্টন মডেল থানায় অস্ত্র আইনে মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হলেও পরবর্তীতে নিয়মিত হাজিরা না থাকায় আদালত পুনরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন সাঈদীর বিরুদ্ধে।
এবিষয়ে বক্তব্য জানতে, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদীর মুঠোফোনে কল করা হয়। রিং হলেও তিনি রিসিভ করেননি। বক্তব্য জানার কথা উল্লেখ করে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়, তাতেও সাড়া না দেয়া তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর












