১৩ মার্চ ২০২৬

জোরারগঞ্জ স্কুল সড়ক যেন মরণ ফাঁদ

শাহ আব্দুল্লাহ আল রাহাত »

মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক জোরারগঞ্জ হাইস্কুল সড়ক।তবে বর্ষা এলেই বড় বড় গর্তে জমে থাকা নোংরা পানিতে টইটুম্বুর হয়ে যায় রাস্তাটি।চলাচলরত সিএনজি এবং অটোরিক্সাগুলো রাস্তার গর্তে আটকে যেতে থাকে।রাস্তার পানি এবং পাশ্ববর্তী ড্রেনের ময়লা পানি জমে একাকার হয়ে যায়। চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে সমস্যা, চরম ভুগান্তিতে এলাকাবাসী।

উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ এবং ৮ নং ওর্য়াডের ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ নিয়মিত চলাচলের জন্য ব্যবহার করে থাকেন এই সড়কটি। এদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা উপজেলার সবচেয়ে বড় বেদে পাড়ার ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষের যাতায়াতের প্রধান সড়ক জোরারগঞ্জ হাইস্কুল সড়ক। এটি জোরারগঞ্জ এবং ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সংযোগ সড়ক হওয়ায় মহাসড়কগামী মানুষজন নিয়মিত সিএনজি যোগে এই রাস্তাটি দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। নিয়মিত প্রায় একশ’রও বেশি সিএনজি এবং অটোরিক্সা এই সড়কটি দিয়ে চলাচল করে থাকে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির জোরারগঞ্জ অংশের প্রবেশমুখে মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকার ফয়েজ উল্ল্যা মাস্টার বাড়ি থেকে বেদে পাড়া পর্যন্ত সামান্য বৃষ্টিতেই জমে থাকে পানি। তাছাড়া পাশ্ববর্তী জলসা কমিউনিটি সেন্টার ঘেষে ড্রেনে বছরের পর বছর জমে থাকা ময়লা এসে পড়ে রাস্তায়। অনেক সময় এসব পানির সাথে স্থানীয় বেদে পাড়ার বাসিন্দারা তাদের টয়লেটের ময়লা পানিও ছেড়ে দেয়। এতে দূষিত হয়ে যায় পরিবেশ। তাই আশে পাশে স্থায়ী বাসিন্দাদের পানিতে চলাফেরা করতেও দেখা দিচ্ছে নানাবিধ সমস্যা।

এছাড়া এই পানি আশেপাশের জমিতে আসতে দিতে চান না স্থানীয় গ্রামবাসী। তারা আশাংকা করছেন এই পানির মাধ্যমে পানি বাহিত রোগ ছড়ানোর সম্ভবনা থাকে। তাই কোনো দিকে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় দিনের পর দিন পানি জমে থাকে রাস্তায়।এমতাবস্থায় রাস্তা টিতে বড় বড় গর্তে তৈরি হয়েছে মৃত্যুফাঁদ। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের কোনো দূর্ঘটনা।

জানা যায়, ২০১৭ সালের দিকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে থেকে ৮নং ওর্য়াডের ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন রাস্তাটি সর্বশেষ সংস্কার করেছিলেন। এরপর আরো কয়েকবার ক্ষুদ্র পরিসরে রাস্তাটি সংস্কার করা হলেও আবার মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে সড়কটি। বড় বড় গর্তে আটকে থাকে সিএনজি ও অটোরিক্সা।

শাহীন ভূঁইয়া নামে এক বাসিন্দা জানান, বেদে পাড়ায় ড্রেনে ময়লা জমে যাওয়ায় পানি রাস্তায় জমে থাকে। আর এই জমে থাকা পানির কারণে বড় গর্তে সৃষ্টি হয়েছে রাস্তাটিতে।

অন্যদিকে আলাউদ্দিন নামে আরেকজন বাসিন্দা জানান, রাস্তাটিতে জমে থাকা পানি অত্যন্ত নোংরা। কেননা জমে থাকা পানির সাথে বেদে পাড়ার বাসিন্দারা তাদের টয়লেটের ময়লা ও ছেড়ে দে। এতে করে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। পানি কোথাও যেতে না পারায় রাস্তায় থৈ থৈ করছে পানি, যেন পুকুরে পরিণত হয়ে আগে গর্তগুলো।

জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ ৮নং ওর্য়াডের ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা জেলা পরিষদ থেকে বড় কোনো বরাদ্দ পেলে রাস্তাটি এবং রাস্তার পাশে ড্রেনগুলো করতে সংস্কার করতে পারবো। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরাদ্দের মাধ্যমে কয়েক বার আমি রাস্তাটি সংস্কার করেছি। কিছুদিন আগে রাস্তার বড় বড় গর্তে আমাদের চেয়ারম্যান মুকছুদ আহমেদ চৌধুরীর উদ্যোগে ইট, বালি দিয়ে সংস্কার করা হয়েছে। আমরা রাস্তাটির স্থায়ী সমাধানের উপজেলা পরিষদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, যদি আমাকে জানানো হতো আমি এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতাম। তবে আগামী অর্থবছরে আমি রাস্তাটির জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করে বরাদ্দের ব্যবস্থা করবো।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ