জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার»
মৃত তিমি ও বর্জ্যের পর এবার ঢেউয়ে মরা মাছের ঢল উঠেছে কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে। সৈকতের সেন্ডি বীচ থেকে হ্যাচারি পয়েন্ট পর্যন্ত আধা কিলোমিটার এলাকায় সামুদ্রিক ছোট মাছের মরা পাল উঠে আসে বালুচরে। শনিবার (১৯ মার্চ) বিকেলের জোয়ারের ঢেউয়ে এসব মৃত মাছ ভেসে আসে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে, কি করাণে এত মাছ একসাথে মারা গেলো, এবং কিই বা এ মাছের উৎস তা কেউ বলতে পারছেন না।
বালুচরে আটকে পড়া এসব মৃত মাছ কুঁড়াতে আসপাশের অনেক পরিবারের নারী-শিশুরা বালিয়াড়িতে নামে। তাদের সাথে দর্শক হন পর্যটকরাও। অনেকে মরা মাছের এ ঢলের স্থির চিত্র ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেন। এ মাছের উৎস নিয়ে ফেসবুকেও আলোচনা চলে।
দরিয়ানগর এলাকার বাসিন্দা আহমদ গিয়াস জানান, বিকেলে হঠাৎ শুনতে পায় ঢেউয়ের সাথে সামুদ্রিক এক প্রজাতির ছোট মাছ মৃত অবস্থায় কুলে উঠে আসছে। স্থানীয়রা ঝুড়ি নিয়ে সৈকতে যান। কলাতলীর বেলি হ্যাচারি হতে সেন্ডি বীচ পয়েন্ট পর্যন্ত মাছগুলো দেখা গেছে। এর আগে মৃত তিমি মাছ উঠে আসতে দেখেছি। ঢেউয়ে ভেসে এসেছিল বিপুল পরিমাণ বর্জ্যও। কিন্তু একসাথে এত সামুদ্রিক ছোট মাছ কেন মরল তার কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না, বলে দাবি করেছেন তিনি।
কলাতলীর শুকনাছড়ি এলাকার জেলে মোহাম্মদ ওসমান বলেন, বিকেলের জোয়ারে ঢেউয়ের সঙ্গে অকস্মাৎ ছোট মরা মাছের ঢল তীরে আসে। এক ধরণের জাল দিয়ে এ মাছ ধরা হয়। মনে হচ্ছে কোন ট্রলারে মজুদ করা মাছ যেকোন কারণে হাতছাড়া হয়েছে জাল ও ট্রলার মালিকদের। সাগরে কোন দূষণ হলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরতো। এখানে কেবল এক প্রজাতির মাছই মরা এসেছে।
টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, ঢেউয়ের সঙ্গে মৃত মাছ ভেসে আসার খবর শুনলেও কোথা হতে এসব মাছ ভেসে এসেছে তা জানা যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে অনুরোধ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মৎস গবেষণা ইনস্টিটিউট কক্সবাজার কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমাদের একটা টিম সমুদ্র তীরে গিয়ে মৃত মাছগুলোর নমুনা সংগ্রহ করেছে। পরীক্ষা করা হচ্ছে মৃত মাছগুলো। প্রাথমিক ভাবে মাছগুলোতে কোন সমস্যা দেখা যায়নি। এরপরও ফলাফল হাতে এলে জানা যাবে কি কারণে মাছগুলো মরলো।
তবে, কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. মো. খালেকুজ্জামানের মতে, ফেসবুকে ঘুরা মাছ উঠার এ দৃশ্যটি কলাতলী এলাকার নয়। কারণ সৈকতের যে পয়েন্টের কথা বলা হচ্ছে তা লোকারণ্য থাকে। আর সেখানে মাছ উঠলে একসাথে অনেক স্থানীয় মাছ ধরতে আসতো। এখানে হাতে গোনা কয়েকজনকে দেখা গেছে। তাই এ চিত্রটি এখানকার বলে মনে হয় না। এরপরও আমার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্তের ভার দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাবার পর বিষয়টি পরিস্কার হবে।
উল্লেখ্য, গতবছর সমুদ্র সৈকতের দরিয়ানগর ও হিমছড়ি সৈকত ভেসে এসেছিল কয়েকটি মৃত তিমি। আরও ভেসে এসেছিল কয়েক হাজার টন বর্জ্য।












