২০ মার্চ ২০২৬

জ্বলে না চসিক কার্যালয়ের সামনের সড়কের বাতি, রাতের ফ্লাইওভার যেন ভুতের বাড়ি (ভিডিও)

রুবেল দাশ  »

একটি বাতি পুরোপুরি বন্ধ, অপরটি জ্বলছে আর নিভছে। পাশের ল্যাম্পপোস্টের আবার দু’টি বাতিই বন্ধ। কয়েক সারি পরপর এমন দৃশ্যই দেখা যাচ্ছে। দৃশ্যটি নগরীর টাইগার পাশের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়ের সামনের সড়কের। নিজেদের কার্যালয়ের সামনের সড়কের এসব বাতি ঠিকমত না জ্বললেও তা অবশ্য জানেন না চসিকের কর্মকর্তারা। হয়ত দিনের আলো ফুরোনোর আগেই তারা অফিস ত্যাগ করেন। তাই বিষয়টি নজরে আসেনি।

এবার আসা যাক চট্টগ্রামের পুরোনো দু’টি ফ্লাইওভার কদমতলী ও বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারে। এখানকার অবস্থা আরো ভয়াবহ। সন্ধ্যা হলেই ভুতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয় ফ্লাইওভার দু’টিতে।

সরেজমিনে অবাক করা দৃশ্য চোখে পড়ে বহদ্দারহাট এম এ মান্নান ফ্লাইওভারে। সম্পূর্ণ ফ্লাইওভারে জ্বলতে দেখা যায় নি একটি বাতিও। অন্ধকারে সুঁই খোঁজার মত করে ফ্লাইওভারটি ব্যবহার করতে হচ্ছে জনসাধারণকে। প্রায় একই চিত্রের দেখা মিলে কদমতলী ফ্লাইওভারেও। এ ফ্লাইওভারের বেশিরভাগ বাতিই জ্বলে না। যেগুলো জ্বলে সেগুলোও আবার না জ্বলার মত। আলো নেই বললেই চলে।

নগরীর সবচেয়ে বড় ফ্লাইওভার আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারেরও অনেক বাতি দীর্ঘদিন ধরে জ্বলে না। এ ফ্লাইওভারের জিইসি থেকে দুইনম্বর গেইটগামী লুপের একটি বাতিও জ্বলতে দেখা যায়নি। এছাড়া দুই নম্বর গেইট থেকে জিইসি গামী লুপটিরও একই অবস্থা। ল্যাম্পপোস্ট আছে কিন্তু সেগুলো জ্বলে না।

জানা যায়, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় নগরীর কদমতলী ও দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার, বহদ্দারহাট এম এ মান্নান ফ্লাইওভার ও আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) কাছে হস্তান্তর করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

বিদ্যুৎ বিলসহ প্রতি মাসে এসব ফ্লাইওভারের পেছনে খরচ হতো অন্তত ৪০ লাখ টাকা। সেই ব্যয় মেটাতে ব্যর্থ হয়ে ফ্লাইওভারগুলোর দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয় চসিককে। কিন্তু এসব ফ্লাইওভারের সৌন্দর্যবর্ধন, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব চসিক নিলেও কমেনি ব্যবহারকারীদের বিড়ম্বনা, বরং বেড়েছে বহুগুণ।

নিতান্তই বাধ্য না হলে রাতের বেলা ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে চান না অনেকেই। এই চারটি ফ্লাইওভারে রাতে যানবাহন চালাতে গিয়ে হিমশিম থেতে হচ্ছে গাড়ি চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীদের। তারা বলছেন, অন্ধকার থাকায় নিরাপত্তার কারণে রাত বেশি হলে তারা এড়িয়ে চলেন ফ্লাইওভার।

কামাল হোসেন নামের একজন সিএনজি অটোরিক্সা চালক বাংলাধারাকে বলেন, রাত ১০টার পরে আর ফ্লাইওভারে উঠি না। যাত্রীরা বললেও উঠি না। কারণ আমাদেরও জানের ভয় আছে।

এছাড়া বাতি না থাকার কারণে ফ্লাইওভারগুলোতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন ফ্লাইওভার ব্যবহারকারীরা। সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র এই অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে নাইলনের সুতা বেঁধে করছে ছিনতাই।যদিও ফ্লাইওভারে ছিনতাই রোধে সম্প্রতি ট্রাফিক পুলিশের একটি টহল টিম নিয়োগ করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ।

তবে সরেজমিনে দেখা গেছে এ টহল পুলিশের টিমগুলো শুধু ফ্লাইওভারের নির্দিষ্ট কিছু অংশেই টহল দিচ্ছে অথবা সেখানে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে ফ্লাইওভারের অন্যান্য অংশ অরক্ষিতই থেকে যাচ্ছে। এছাড়া পুলিশের টহল টিম রাত ১০টা পর্যন্ত থাকছে ফ্লাইওভারে। এরপর আবার ভয়ংকর হয়ে উঠছে ফ্লাইওভারগুলো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চসিকের গাফিলতির কারণেই ফ্লাইওভারগুলোর এ অবস্থা।নিরাপত্তাজনিত কারণে কোন অজুহাত না দেখিয়ে ফ্লাইওভারসহ নগরীর যেসব স্থানের সড়ক বাতি জ্বলছে না দ্রুত এগুলো ঠিক করা উচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি আশিক ইমরান বাংলাধারাকে বলেন, নগরীর প্রত্যেকটি স্থানে সড়কবাতি স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। যদি কোথাও বাতি না জ্বলে সেটার সম্পূর্ণ দায়ভার সিটি করপোরেশনকে নিতে হবে। তাদের গাফিলতির কারণেই সড়ক ও ফ্লাইওভারে বাতি জ্বলছে না।

তবে অবাক করা বিষয় নিজেদের কার্যালয়ের সামনের সড়কবাতি ও ফ্লাইওভারের বাতি যে জ্বলছে না সেটা জানেনই না চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বাংলাধারাকে বলেন, ফ্লাইওভারে বাতি কেন জ্বলবে না, জ্বলার তো কথা! আপনার কথার ভিত্তিতে আমরা খবর নিয়ে দেখব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ঝুলন কুমার দাশ বাংলাধারাকে বলেন, ফ্লাইওভারের ল্যাম্পপোস্টের তারগুলো চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বত্তরা। তাই বাতিগুলো জ্বলছে না। এ বিষয়ে আমরা থানায় মামলাও করেছি। তবে শীঘ্রই বাতিগুলো জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হবে।

বাংলাধারা/এফএস/আরডি/এআর

আরও পড়ুন