পটিয়া প্রতিনিধি »
টানা বর্ষণে পটিয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে মানুষের বসত ঘর ভেঙে পড়েছে এবং দুইশ পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে।
রবিবার,সোমবার ও মঙ্গলবার দিনভর বৃষ্টি হলে বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলের পানি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে নেমে এই ক্ষতি হয়। বেশি ক্ষতির সম্মুখীণ হয়েছে উপজেলার কেলিশহর, হাইদগাঁও, কচুয়াই, খরনা, ভাটিখাইন, ছনহরা, ধলঘাট, হাবিলাসদ্বীপ, জিরি, কুসুমপুরা, আশিয়া, কোলাগাঁও ছাড়াও পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডে।
অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে উপজেলার স্কুল, কলেজ মাদ্রাসার ছাত্রদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। পৌর সদরের রামকৃষ্ণ মিশন রোডে কোমর পর্যন্ত পানি জমে থাকায় স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীরা এসব পানি দিয়ে সকাল থেকে চলাচল করতে দেখা যায়।
বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের মৌলভী হাটের মো. ইসমাইল, মুজিবুর রহমান, আবদুল মান্নান, ইসহাক মিয়ার মাটির বসত ঘর ভেঙে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে আটকা পড়েন মো. মোক্তার (২৬) নামের একব্যক্তি। পরে কেলিশহর এলাকার ২০-৩০জন লোক গিয়ে তাকে জীবিত উদ্ধার করেন। পানিতে ঢুবে কেলিশহরের মুজিবুর রহমানের একটি গরু বাছুর মারা গেছে।
এদিকে, সঠিক সময়ে বৃষ্টির অভাবে আমন চাষাবাদ শুরু করতে পারেনি কৃষকরা। তবে কিছু কিছু কৃষক আমন চাষাবাদের বীজ রোপন করলেও অতি বৃষ্টির কারণে বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে।
শ্রীমাই খালের বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি ও বৃষ্টি পানি চলাচল করছে। বেড়িবাঁধের ভাটিখাইন, ছনহরা ও কচুয়াই এলাকায় কয়েকটি স্পটে ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখে গেছে, টানা দুইদিনের ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানি ও বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। সোমবার সকাল থেকে লোকজন যেন অনেকটা গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন।
পুকুর থেকে ভেসে যাওয়া মাছ ধরতে এলাকার লোকজন যেন প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। উপজেলা ও পৌরএলাকার অনন্ত ২শ পুকুরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পানিতে ভেসে গেছে।
এদিকে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান মহা সড়কের পটিয়া পোস্ট অফিস মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে রয়েছে। পোস্ট অফিস মোড় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ (পটিয়া সার্কেল) জসিম উদ্দিন খাঁনের সরকারি গাড়ি গর্তে আটকে পড়ে। শ্রীমাই খালের ভাটিখাইন এলাকার ২টি স্পটে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান বাংলাধারাকে জানিয়েছেন, টানা বর্ষণে পটিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। যেসব এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শনসহ ক্ষতিগ্রস্থদের নামের তালিকা সংগ্রহ করার কাজ চলছে।
কচুয়াই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস,এম ইনজামুল হক জসিম বাংলাধারা কে জানিয়েছেন, তাদের বাড়ি এলাকায় শ্রীমাই খালের বেড়িবাঁধ ভেঙে এখন পুরো এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। লোকজন আতংকের মধ্যে রয়েছে। যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে আজ উপজেলার কেলিশহর ও রতন পুর ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ হতে নগদ অর্থ প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল হাসান ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর












