বাংলাধারা প্রতিবেদন »
বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক এলাকা (ইইজেড)’র গভীর সমুদ্র ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় টুনা ও সমজাতীয় মাছের অবস্থান যাচাই ও আহরণে ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহি কমিটি (একনেক)।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারিত হওয়ায় এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার এলাকায় মৎস্য আহরণে আইনগত ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিশাল এ সামুদ্রিক সম্পদ কাজে লাগাতে যাচ্ছে সরকার।
প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশে বলা হয়েছে: গভীর সমুদ্র ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় অনাহরিত টুনা ও সমজাতীয় মৎস্য আহরণের মাধ্যমে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন। গভীর সমুদ্র হতে টুনা ও সমজাতীয় মৎস্য আহরণে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল তৈরি এবং টুনা ও সমজাতীয় মৎস্য আহরণে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিতকরণ। জুলাই ২০২০ হতে শুরু হয়ে এ পাইলট প্রকল্প শেষ হবে ডিসেম্বর ২০২৩।
জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় থাকবে তিনটি লং লাইনার প্রকৃতির ফিসিং ভেসেল ক্রয় ও পরিচালনা, টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মৎস্য আহরণ এবং গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গভীর সমুদ্র ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় টুনা ও সমজাতীয় মৎস্য আহরণে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিতকরণ এবং গভীর সমুদ্র হতে টুনা ও সমজাতীয় মৎস্য আহরণে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল তৈরি হবে বলে আশা করছে সরকার।
মৎস্য অধিদফতর সূত্র জানায়, বাংলাদেশের ক্ষুদ্রায়তন মৎস্য সেক্টরের মাধ্যমে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ আহরণ প্রধানত সাগরের অগভীর অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অনেক ক্ষেত্রেই মৎস্য সংরক্ষণ আইন সঠিকভাবে প্রতিপালিত হয় না। যাতে মৎস্য মজুতে কিশোর মাছ প্রবেশন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইতিমধ্যে মৎস্য আহরণ চারটি ফিশিং গ্রাউন্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে আধুনিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলার।
অথচ দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে মৎস্য সেক্টরের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রায় ৬০ শতাংশ আমিষের জোগান দেয় মাছ।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৯ এর তথ্যমতে, দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং মোট কৃষিজ আয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশ (২৫ দশমিক ৭১ শতাংশ) মৎস্যখাত থেকে আসে। বিগত ১০ বছরে এ খাতে গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ।
সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, নদী ও চাষের মাছের পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। দেশের বিশাল সমুদ্র সীমায় বিপুল মৎস্য আহরণের সুযোগ আছে। উন্নত অনেক দেশে টুনা সুস্বাদু, জনপ্রিয় এবং দামি মাছ হিসেবে পরিচিত।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












