জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার »
কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশের ঝিরি খাল থেকে হাতি শাবকের একটি মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে ক্যাম্পে কর্মরত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা এ মৃতদেহ উদ্ধার করে বনবিভাগকে হস্তান্তর করেছে। এমনটি জানিয়েছেন কক্সবাজার ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক পুলিশ সুপার (এসপি) তারিকুল ইসলাম তারিক।
এসপি তারিক জানান, স্থানীয়রা খবর দেন টেকনাফে ১৬ এপিবিএন এর আওতাধীন রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৬ (শালবাগান) তাঁরকাটার বেষ্টনীর বাইরে আনুমানিক ৫’শ গজ পশ্চিমে পাহাড়ের পাদদেশে পানির ছড়ার মধ্যে একটি বন্য হাতি মৃত অবস্থায় ভাসছে। বন্য হাতি মৃত্যুর খবর ক্যাম্প এলকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক সাধারণ রোহিঙ্গারা ভিড় জমালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শালবাগান এপিবিএন ক্যাম্পের অফিসার ও ফোর্স মোতায়েন করা হয়। ধারনা করা যাচ্ছে বন্য হাতিটি অনুমান ৩/৪ দিন আগে পাহাড় চূড়া থেকে পড়ে পানির ছড়ার মধ্যে মারা যায়। শালবাগান এপিবিএন কর্তৃক সংশ্লিষ্ট বন বিভাগকে অবহিত করে।
কক্সবাজার বন বিভাগের (দক্ষিণ) বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সরোয়ার আলম বলেন, কক্সবাজার ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন কর্মকর্তারা ক্যাম্প সংলগ্ন শালবাগান এলাকা থেকে প্রায় ২ বছর বয়সী শাবকটির মৃতদেহ উদ্ধার করে। বনকর্মীরা শাবকটির শরীরে কোন ক্ষত পাইনি। মৃত্যুর কারণ জানার জন্য একজন ভ্যাটেনারি সার্জনকে ময়নাতদন্ত করতে বলেছি।
টেকনাফ বন বিট কর্মকর্তা ছৈয়দ আশিক আহমদ জানান, গত (২০ সেপ্টেম্বর) একই ঝিরি থেকে আরেকটি হাতি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এ নিয়ে পর পর দু’টি হাতির মৃত দেহ একই স্থানে পাওয়া গেল। হাতির মৃত্যুর কারণ সঠিক বলা মুশকিল। বনের ভেতর স্থানীয় ও রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তদের অবস্থানের একটা বিষয়ও রয়েছে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার জেলায় মানুষের পাতা ফাঁদে প্রায় হাতির মৃত্যু হয়। হাতির আবাস ও চলাচলের পথ রূদ্ধ হওয় যাওয়ায় মানুষ-হাতির দ্বন্ধ ক্রমে বাড়ছে। গত চার বছরে মারা পড়েছে প্রায় এক ডজন হাতি। আর ২০০১ থেকে ২০২১ সাল এ বিশ বছরে (চলতি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) প্রায় ১৩০টি হাতি মারা গেছে।
বাংলাধারা/এআই












