১৮ মার্চ ২০২৬

ঠিকাদারের বিরুদ্ধে সড়ক উন্নয়ন কাজে গাফিলতির অভিযোগ খোদ কউক’র

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার»

দেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজার এখন কার্যত অচল। শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলির প্রায় সব রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে। এমন অনেক সড়ক আছে যা খুঁড়ে রাখার ফলে হেঁটে চলাচল করাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এছাড়া রাস্তা সংস্কারের জন্য খুঁড়া বিশাল আকারের সব গর্তের পাড় ঘেঁষে দুর্ঘটনার আশঙ্কা মাথায় নিয়ে চলতে গিয়েও যানবাহনের জটলায় আটকে থাকতে হচ্ছে পথচারীদের।

চলতি বছর জুড়ে এমন দুর্ভোগ কক্সবাজারবাসীর এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। আর সমুদ্রের টানে যারা সেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন তারাও শহরের প্রাচীন বার্মিজ মার্কেটে যেতে গেলে ধুলা আর কাদাযুক্ত পরিবেশে নাকাল হতে হচ্ছে। খোদ প্রধান সড়কটি  নতুন করে নির্মাণকারী সংস্থা কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল ফোরকান আহমেদ সড়ক নির্মানে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে বাজারঘাটা পুকুর পাড়ে  প্রধান সড়কের নির্মাণ কাজে ধীরগতি বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়।

সভায় কউক চেয়ারম্যান বলেন, বেহাল সড়কের কারনে কক্সবাজার পৌরবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। এরপরেও সড়ক নির্মাণে হাতেগোনা শ্রমিক নিয়োগ করে ধীরগতি পন্থা অবলম্বন করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তাহের ব্রাদার্স। অথচ এ সড়কে ইচ্ছে করলে ৫০০থেকে এক হাজার শ্রমিক দিয়ে কাজ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষথেকে ঠিকাদারকে সব ধরনের সহযোগীতা দেওয়া হচ্ছে। টাকারও কোন অভাব নেই। এরপরেও কেন সড়কের কাজ দ্রুত হচ্ছে না আজ আমি এবং কক্সবাজারবাসী তাদের কাছে জানতে চায়।

সভায় উপস্থিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও প্রজেক্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ভৌগলিক অবস্থানের এখানকার মাটি নরম প্রকৃতির। ফলে একসাথে কাজ করতে গেলে যেকোন সময় তা দেবে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই চেষ্টা করেও অনেক জায়গায় কাজ করতে না পেরে বন্ধ রাখতে হয়েছে। কোন শ্রমিককে মাসের বেশি সময় এখানে অবস্থান করানো যায় না। ফলে সবদিক থেকেই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। আর ভোগছে পথচারীও। এরপরও আমরা যেকোন মূল্যে নির্ধারিত সময়ের (২০২২ সালের জুন মাসে) মধ্যে আমরা নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করবো।

সভায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি-এলজি) শ্রাবস্তী রায়, কউকের সচিব আবু জাফর রাশেদ, কউকের প্রকল্প পরিচালক লে. কর্ণেল খিজির খান , কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী, সড়ক ও জরপদ বিভাগ এবং কক্সবাজার পৌরসভার প্রতিনিধিসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় কউক চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করুক আর না করুক, তার দায়ভার আমার ও আমার প্রতিষ্ঠানের (কউক)। এরপরও এ মতবিনিময় সভার আয়োজন আপনাদেরকে জানানো- আসলে ভেতরে কি হচ্ছে। প্রতিদিন অনেক ফোন আসে সড়কের বেহাল দশা নিয়ে। উত্তর দিতে দিতে কাহিল হয়ে গেছি। তাই ঠিকদার প্রতিষ্ঠানকে আপনাদের সামনে হাজির করেছি। এখনো নির্ধারিত সময় শেষ না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধেও কোন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। ধীর গতির কাজে তাদের গাফেলতি রয়েছে বলে প্রতিয়মান হচ্ছে। 

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন