১ ডিসেম্বর ২০২৫

ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল: সিইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।

শনিবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের রাজধানীর ঢাকার শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মক ভোটিং পরিদর্শন করেন সিইসি। সেখানে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেন তিনি।

সিইসি বলেন, ‘আমরা মোটামুটি সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ইনশাআল্লাহ, জাতিকে যে সুন্দর, অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছি তা আমরা বাস্তবায়ন করব।’

মক ভোটের বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘আজকের এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো একটি আদর্শ পোলিং সেন্টারের পরিবেশ কেমন হবে তা বাস্তবে দেখা। ভোটার কিউ, পোলিং অফিসারদের কার্যক্রম, প্রিসাইডিং অফিসারদের ভূমিকা, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে সবই আমরা প্র্যাকটিক্যাল ডেমনস্ট্রেশনের মাধ্যমে যাচাই করছি।’

তিনি জানান, প্রথমবারের ভোটারসহ অনেকেরই কখনো ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা না থাকায় মক ভোটিংয়ে তাঁরা হাতে–কলমে ধারণা পাচ্ছেন। পাশাপাশি কমিশন ভোট গ্রহণের পুরো সময় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা পরিমাপ করছে। যেহেতু নির্বাচনের পাশাপাশি এবার গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, এ জন্য সময় ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সিইসি বলেন, ‘আমরা সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করি। এবার অতিরিক্ত গণভোট পরিচালনা করতে হবে। তাই আজকের রিয়েল টাইম অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ৪২ হাজার ৫০০ পোলিং সেন্টার যথেষ্ট কি না বা বুথ বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বুথ বাড়ানো মানে অতিরিক্ত জনবল, বাক্স, লজিস্টিকসহ নানা ব্যয় যুক্ত হবে। তবে কমিশন খরচ নয়, প্রয়োজনকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেবে। মানুষকে কষ্ট দিতে চাই না। সময় যদি বেশি লাগে, আমরা বুথ বা কেন্দ্র বাড়াব। আজকের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হবে।’

মক ভোটিংয়ে অনেকের দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘এটিও একটি অভিজ্ঞতা। আজকের মূল্যায়নে আমরা দেখব কোন জায়গায় ঘাটতি আছে। বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এসব গ্যাপ পূরণ করা হবে।’

নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকে কেন্দ্র সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা কখনো পারফেক্ট ছিল না। বিচ্ছিন্ন ঘটনা তো থাকবেই। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি অনেক উন্নতি করেছে। আমরা পুলিশ, র‍্যাব, আনসার, বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ সব সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। আগের তুলনায় এখন পরিস্থিতি অনেক শান্ত। আগে আমরা নিজেরাও নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম। এখন পরিস্থিতি অনেক ইম্প্রুভও করেছে।’

সিইসি বলেন, ‘গণভোটে চারটি প্রশ্ন থাকলেও ভোট হবে “হ্যাঁ” বা “না”। আইন অনুযায়ী প্রশ্নগুলো একসঙ্গে বান্ডেল করা। এক-দুটো প্রশ্নে হ্যাঁ, বাকি প্রশ্নে না—এ রকম পৃথক অপশন নেই। এটা রাজনৈতিকভাবে নির্ধারিত।’

আরও পড়ুন