বাংলাধারা ডেস্ক »
তল্লাশির নামে দুই কেজি স্বর্ণ আত্মসাতের ঘটনায় ফেনীর ডিবি পুলিশের ওসিসহ ছয় কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচ জনকে সাসপেন্ড (সাময়িক বরখাস্ত) করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাতে অভিযুক্তদের বাসা থেকে ১৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার (১১ আগস্ট) ফেনী আদালতে আসামিদের সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গ্রেপ্তার করা হয় ফেনীর ডিবির ওসি সাইফুল ইসলাম, এসআই মোতাহার হোসেন, এসআই নূরুল হক, এসআই মিজানুর রহমান, এএসআই অভিজিত বড়ূয়া ও এএসআই মাসুদ রানা। পরে ওসি সাইফুল ছাড়া অন্যদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ডিবি ইন্সপেক্টরকে (ওসি) বরখাস্ত করার এখতিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের, তাই তাকে সাসপেন্ডের আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগকারী চট্টগ্রামের রিয়াজ উদ্দিন বাজারের হাজারী গলির স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি দাস জানান, গত রোববার তিনি চট্টগ্রাম থেকে প্রায় তিন কেজি ওজনের ২০টি স্বর্ণেরবার নিয়ে প্রাইভেটকারে সড়কপথে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাদের গাড়ি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ফতেহপুর ওভারব্রিজ অতিক্রমকালে ফেনী ডিবি পুলিশের পোশাক পরা একটি দল তাদের গাড়ির গতিরোধ করে তল্লাশি শুরু করে। ডিবি পুলিশ এ সময় তার সঙ্গে থাকা ২০টি স্বর্ণেরবার চোরাচালানের অভিযোগ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নেয়। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের নিয়ে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে তিন ঘণ্টা চক্কর দিতে থাকে। রাত সাড়ে ৮টায় তাদের মহাসড়কের চট্টগ্রাম সীমান্তের বারইয়ার হাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং এ ঘটনা প্রকাশ করা হলে চরম মূল্য দিতে হবে বলে চট্টগ্রাম চলে যেতে বাধ্য করে।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, হুমকি উপেক্ষা করেই মঙ্গলবার বিকেলে গোপাল দাস ফেনী থানায় ডিবি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগ দাখিল করলে পুলিশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নূরুন্নবী রাত ৯টার দিকে ফেনী থানায় উপস্থিত হন। পুলিশ সুপার বাদী ও ডিবি কর্মকর্তাদের মুখোমুখি করে ঘটনার বর্ণনা ও সত্যাসত্য অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু করেন।
এ সময় ডিবি অফিসে কর্মরত সব কর্মকর্তাকে গোপাল দাসের সামনে উপস্থিত করে শনাক্ত করতে বলেন। বাদী চার কর্মকর্তাকে চিনতে পারেন। পরে ডিবি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যে আরও দুই কর্মকর্তাকে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক তদন্তের পরই পুলিশ সুপারের নির্দেশে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফেনী থানা পুলিশ ব্যবসায়ীর অভিযোগটি মামলা হিসাবে গ্রহণ করে।
পুলিশ সুপার রাত ১২টার দিকে ফেনী থানায় উপস্থিত সাংবাদিকদের ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি দল রাত ১১টার দিকে অভিযুক্ত ডিবি কর্মকর্তাদের বাসায় অভিযান ও তল্লাশি করেছে। তাদের বাসা থেকে ১৫টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
সদর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জানান, ১৫টি বারে মোট প্রায় দুই কেজি ২০০ গ্রাম স্বর্ণ রয়েছে। এর অনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি ২৩ লাখ টাকা। দুপুরে ফেনী থানা পুলিশ কড়া পাহারায় আসামি ডিবি কর্মকর্তাদের ফেনী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে আসে। এ সময় আসামিদের কোর্ট চত্বরে মাইক্রোবাস থেকে নেমে পুলিশ পাহারায় দৌড়ে আদালত কক্ষে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
কোর্ট ইন্সপেক্টর গোলাম জিলানী জানান, বিকেল ৩টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল্লাহর আদালতে আসামিদের সোপর্দ করা হয়। পুলিশ প্রত্যেক আসামির পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ডিবির ওসি সাইফুল ইসলামের চার দিনের ও বাকি আসামিদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পরে ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ মাইনুল ইসলাম জানান, পুলিশ সুপার আসামিদের মধ্যে এসআই ও এএসআইদের বুধবার সাময়িক বরখাস্ত করেন। ডিবি ইন্সপেক্টরকে (ওসি) বরখাস্ত করার এখতিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
বাংলাধারা/এআই












