বাংলাধারা প্রতিবেদক :::
বুধবার (১৬ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা আহত হয়, কেউ কেউ আবার হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছেন।
এই ঘটনায় ওই দিন দিবাগত রাতে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিমের অনুসারী ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল সায়মুন বাদী হয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে চাকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে প্রধান আসামী করা হয় চকবাজার ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি যুবলীগ নেতা নূর মোস্তফা টিনুকে।
সংঘর্ষের ঘটনার পর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, নুর মোস্তফা টিনু বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে এনে তাঁদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। এ ঘটনায় সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিকও জড়িত ছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে একটি পক্ষ নূর মোস্তফা টিনুকে প্রধান আসামি করে মামলা করান। যেখানে ঘটনাস্থলে টিনু ছিলেন-ই না।
এ ব্যাপারে নূর মোস্তফা টিনু বাংলাধারাকে বলেন, চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনার সাথে আমি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই। কারণ, ঘটনার সময় আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে ছিলাম। আমাকে প্রধান আসামী করে মামলা করা একটা বড় ষড়যন্ত্র। মূলত চকবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনকে ঘিরে একটি পক্ষ জলঘোলা করতে এই অপচেষ্টা।
ঘটনার একদিন পর বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) বিকেলে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিমসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করা হয়েছে। বাদি হয়েছেন আবার আগের মামলার ৯ নম্বর আসামি আনসার উদ্দীন। তিনি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সভাষ মল্লিক সবুজের অনুসারী এবং ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।
বৃহস্পতিবার বিকেলে চকবাজার থানায় মামলাটি দায়ের করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন ওসি মোহাম্মদ আলমগীর।
পাল্টা মামলার আসামিরা হলেন— চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম, আবদুল্লা আল সাইমুন, জাহিদ হাসান সাইমন, সাফায়েত হোসেন রাজু, মোস্তফা আমান, কায়েস মাহমুদ, শেফায়ুতুল করীম, কাইয়ুম, ওয়াহিদুর রহমান সুজন, মেহরাজ সিদ্দিকী পাভেল, আবু তোরাফ ও তৌহিদুল করিম ইমন। মামলায় আরও ৭/৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। তবে কেউ গ্রেপ্তার হয়নি এখনও।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩০৭/৩২৫/৩২৬/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ বাংলাধারাকে বলেন, সভাপতি মাহমুদুল করিম তার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র ও লাঠি সোঠা নিয়ে আনসার উদ্দিনদের গতিরোধ করে তার দলে যোগ দিতে আহ্বান করে। এতে আনসার অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের উপর হামলা চালায়।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, চট্টগ্রাম কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজের অনুসারী আনসার উদ্দিন তার সহপাঠীরাসহ বাসায় ফিরছিলেন। এসময় সভাপতি মাহমুদুল করিমের নেতৃত্বে অনুসারীরা গতিরোধ করে তার দলে যোগ দিতে আহ্বান করে। এসময় আনসার উদ্দিন অপরাগরতা প্রকাশ করায় তাদের ওপর হামলা করে।
এতে আনসার উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
বাংলাধারা/এফএস/এআই












