কক্সবাজার প্রতিনিধি »
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত টিমকে ওসির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়ায় তিন ব্যক্তিকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। শনিবার (৩০নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার ঘটনায় কুতুবদিয়া বড়ঘোপ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ.ন.ম শহীদ উদ্দিন ছোটনকে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে কক্সবাজার শহর থেকে তাকে আটক করা হয়।
হামলার পরপরই অভিযুক্ত বেলাল নামের আরো এক যুবককে আটক করে পুলিশ । আটক ইউপি চেয়ারম্যানকে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
দুদক চট্টগ্রামের উপ-সহকারি পরিচালক জাফর সাদেক শিবলী সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
হামলায় আহত সাক্ষীরা হলেন, দেলোয়ার, রুহুল আমিন ও মফিজ আলম।
আহত রুহুল আমিন বলেন, কুতুবদিয়া থানার ওসি দিদারুল ফেরদৌসসহ থানা পুলিশের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে শ্রমিকলীগ নেতা মনোয়ারুল ইসলাম মুকুল গত বছরের শেষের দিকে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) এ অভিযোগের সরেজমিন তদন্তে আসে দুদক কর্মকর্তারা। জবানবন্দি নিতে দুদক কর্মকর্তারা আমিসহ অন্য সাক্ষীদের কুতুবদিয়া উপজেলা সদরে ডাকেন। সেখানে সাক্ষ্য দিয়ে ফেরার পথে আমাদের উপর হামলা চালানো হয়। বড়খোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ ন ম শহিদুল উদ্দিন ছোটনের নেতৃত্বে ১০-১২জন সন্ত্রাসী আমাদের বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে।
অভিযোগের বাদী মনোয়ারুল ইসলাম মুকুল বলেন, দ্বীপ উপজেলা কুতুুুবদিয়ার বিভিন্ন মানুষকে জিম্মি করে টাকা আদায়, তবলার চরের বির্তকিত জমি নিজে লাগিয়ত দিয়ে অর্থ আর্ত্মসাৎ ও উপজেলার বিভিন্ন ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে থানা হাজতে আটকে রেখে টাকা আদায়ের বিষয়ে ২০১৮ সালের ৬ আগষ্ট আমি দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করি। বিষয়টি তারা আমলে নিয়ে তদন্ত না করায় আমি হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করি। যার নং- ১২২৯১। এর প্রেক্ষিতে মাননীয় হাইকোর্ট বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুদককে নির্দেশ দেয়।
তিনি আরো বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় দুদক কর্মকর্তারা শনিবার কুতুবদিয়া এসে সরেজমিন তদন্তকাজ শুরু করে। সন্ধ্যায় দুদক টিমকে সাক্ষ্য দিয়ে ফেরার পথে দেলোয়ার, রুহুল আমিন ও মফিজ আলম নামের তিন সাক্ষীর উপর হামলা চালানো হয়।
তিনি আরো জানান, ওসিকে নিজেদের অপকর্মে ব্যবহারকারি উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর, বড়খোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ ন ম শহিদ উদ্দিন ছোটন ও কৈয়ারবিল ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আজমগীর মাতবরের নেতৃদ্ধে সন্ত্রাসীরা তাদের পিটিয়ে জখম করে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলেও তাদের বাধাগ্রস্থ করা হয়।
এব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম সমন্বিত অঞ্চল-২ এর উপ সহকারী পরিচালক শরিফ উদ্দিন বলেন, ওসি দিদারুল ফেরদৌসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের দাবীতে মনোয়ার ইসলাম মুকুল নামের এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তে শনিবার সকালে আমরা চার সদস্যের একটি টিম কুতুবদিয়া আসি। এসময় আমরা বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলি। অনেকে ওসির বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়েছেন।
এরই মাঝে সন্ধ্যার দিকে ওসির পক্ষ হয়ে চেয়ারম্যান ছোটনের নেতৃত্বে একদল দূর্বৃত্ত অভিযোগের সাক্ষী দেওয়া তিনজনের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। খরব পেয়ে আমরা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করাই। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। একইসাথে হামলার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ছোটনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে।
কুতুবদিয়া থানার ওসি দিদারুল ফেরদৌস বলেন, দুদকের তদন্তকালে পুলিশের পক্ষ থেকে যা সহয়োগিতা চাওয়া হয়েছে, তাই দেয়া হয়েছে। সাক্ষীদের উপর হামলার ঘটনা আমাদের জানানো হলে তাদের উদ্ধারে সহযোগিতা করি। চেয়ারম্যান ছোটন আমার পক্ষ হয়ে সাক্ষীদের উপর হামলা করেননি। তিনি কেন সাক্ষীদের উপর হামলা করেছেন, তা আমার জানা নেই। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান ছোটন গ্রেফতার হয়েছেন।
হামলায় অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব না হওয়ায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি। পরবর্তীতে বক্তব্য পাওয়া গেলে গুরুত্ব সহকারে পরে ছাপানো হবে।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












