তারেক মাহমুদ »
করোনার তাণ্ডব চলছে গোটা বিশ্বজুড়েই ৷ প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা ৷ বাড়ছে মৃ্ত্যুও ৷ এই তালিকা থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশও ৷ আজ মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৯১ জন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ১০৩৪ জন৷ গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের ৷ ফলে করোনায় দেশে এখন মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৩৯ জন ৷ এদিকে, করোনা আক্রান্তের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামও। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪১৫ জনে। এ নিয়ে চট্টগ্রামে মৃত্যুবরণ করেছেন ২১ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭০ জন।
গত ২৪ ঘন্টায় চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩ জন। চট্টগ্রামের বিআইটিআইডিতে নমুনা পরীক্ষা করে চট্টগ্রামে ২৭ জন নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নমুনা পরীক্ষা করে চট্টগ্রামে ২ জন করোনা পজিটিভ রোগী পাওয়া গেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলায় ৫৪ জন করোনা পজিটিভ রোগী পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় ১৬ জন, সাতকানিয়ায় ৩২ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ১৩ জন, সীতাকুন্ডে ১৭ জন, হাটহাজারীতে ৪ জন, চন্দনাইশে ৩ জন, মিরসরাই উপজেলায় ৪ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হন। এছাড়া লোহাগাড়ায় উপজেলায় ২১ জন, সন্দ্বীপে ৮ জন, বাঁশখালীতে ৩ জন, রাউজানে ১ জন, বোয়ালখালীতে ২ জন, ফটিকছড়িতে ১ জন এবং আনোয়ারা উপজেলায় ১ জন করোনা পজিটিভ রোগী পাওয়া গেছে।
এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে এখন পর্যন্ত আগ্রাবাদে ৭ জন, গ্রীণভিউ আবাসিক এলাকায় ১ জন, কর্ণেলহাটে ১ জন, পাহাড়তলীতে ৮ জন, বাঁচামিয়া রোড এলাকায় ১ জন, লালখানবাজারে ২ জন, দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে ২৬ জন, নয়াবাজারে ১ জন, আকবর শাহ এলাকায় ২ জন, চকবাজারে ২ জন, নাসিরাবাদে ৫ জন, পাঁচলাইশে ৫ জন, নন্দনকাননে ২ জন, কাজীর দেউড়িতে ১ জন, লালদীঘিতে ১ জন, কদমতলী এলাকায় ৩ জন করোনা শনাক্ত রোগী পাওয়া যায়। এদিকে, নগরীর হালিশহর এলাকায় ১৬ জন, ফিরিঙ্গীবাজারে ৩ জন, পতেঙ্গায় ৫ জন, টেরিবাজারে ১ জন, এয়ারপোর্ট এলাকায় ১ জন, হাজারীগলিতে ২ জন, বন্দরটিলায় ১ জন, বায়েজীদ এলাকায় ২ জন, বেপারিপাড়ায় ১ জন, ডবলমুরিং এলাকায় ১ জন করোনা পজিটিভ রোগী পাওয়া যায়।
এছাড়া, সাকেরপুল এলাকায় ১ জন, ফ্রিপোর্ট এলাকায় ১ জন, হাজীপাড়ায় ১ জন, সরাইপাড়ায় ৪ জন, একেখান এলাকায় ১ জন, উত্তর কাট্টলীতে ৩ জন, মুন্সিপাড়ায় ১ জন, মনসুরাবাদে ২ জন, নেভী হাসপাতাল গেইট এলাকায় ১ জন, ঈদ গাঁ এলাকায় ৩ জন, ইপিজেডে ৬ জন, অক্সিজেন এলাকায় ১ জন, দেওয়ানহাটে ১ জন, সাগরিকা এলাকায় ৬ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
মহামারি এই করোনাভাইরাসের থাবায় বহদ্দারহাটে ৩ জন, কসমোপলিটন এলাকায় ২ জন, মেহেদিবাগ এলাকায় ২ জন, বাকলিয়ায় ১৩ জন, মোগলটুলিতে ২ জন, নিউমার্কেট এলাকায় ২ জন, সদরঘাটে ২ জন, আমবাগান রেলওয়ে কলোনীতে ২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাছাড়া এনায়েত বাজারে ৪ জন, শুলকবহরে ১ জন, কোতোয়ালী এলাকায় ১ জন, চান্দগাঁও এলাকায় ১ জন, কাঠগড়ে ১ জন ও বন্দরে ২ জন করোনা পজিটিভ রোগী পাওয়া যায়।
এদিকে, করোনার নমুনা পরীক্ষা করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ১ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, ফিল্ড হাসপাতালে ৪ জন ও ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) তে ২ জন করোনা পজিটিভ রোগী পাওয়া যায়।
বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ০-৫ বছর বয়সী ৭ জন, ১১-২০ বছর বয়সী ১৯ জন, ২১-৩০ বছর বয়সী ৮৬ জন, ৩১-৪০ বছর বয়সী ৮৫ জন, ৪১-৫০ বছর বয়সী ৭০ জন, ৫১-৬০ বছর বয়সী ৩৩ জন, ৬০-উর্ধ্বে ৩২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বাংলাধারাকে বলেন, চট্টগ্রামে এখন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষার মাত্রা আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়েছে। তবে চট্টগ্রামে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন জনগণকে সচেতন হতে হবে। কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে, সেখান থেকে যেকোনো বিষয় জানতে পারবে সবাই। নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বাংলাধারাকে জানান, বন্দরনগরী চট্টগ্রামে করোনা পজিটিভ রোগীর মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা নিয়মিত গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। নগরবাসীকে সব বিষয়ে অবগত করছি। তবে মানুষকে এখন আগের চেয়ে আরো বেশি সচেতন হতে হবে।
তিনি বলেন, সবমিলিয়ে চট্টগ্রামে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪১৫ জনে। এ নিয়ে চট্টগ্রামে মৃত্যুবরণ করেছেন ২১ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭০ জন। বর্তমানে আসোলেশনে রয়েছেন ৯৪ জন। হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ২৩৮ জন।
উল্লেখ্য, বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও লকডাউন মানছেন না মানুষ। দিনে দিনে রাস্তায় বাড়ছে মানুষ আর যানবাহনের উপস্থিতি। গণপরিবহন ছাড়া এখণ সবধরনের গাড়িই নামছে রাস্তায়। এতে চট্টগ্রামে আশঙ্কাজনক হারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












