৩১ মার্চ ২০২৬

দেশের চলমান ঘটনাবলী নিয়ে চবি শিক্ষক সমিতির উদ্বেগ প্রকাশ

চবি প্রতিনিধি »

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ধর্ষণ, গুজব ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের প্রতি হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন ধরনের ঘটনাবলী নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

রবিবার (২৮ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনটির সভাপতি প্রফেসর মো: জাকির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. অঞ্জন কুমার চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বাজারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত দুধের উপর জনস্বার্থে গবেষণা করে তাতে অ্যান্টিবায়োটিকসহ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানের সন্ধান পান। গবেষণার ফলাফল গণমাধ্যমে প্রকাশের পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব গবেষণা-বিশ্লেষণকে ভুল এবং অধ্যাপক ফারুকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ‘হুমকি’ দেন। এরপর একটি টেলিভিশন টক-শোতে অধ্যাপক ফারুকের সঙ্গে ওই কর্মকর্তা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

একজন খ্যাতিমান গবেষকের প্রতি একজন সরকারী পদস্থ কর্মকর্তার এহেন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও শিষ্টাচার বহির্ভূত। একজন সম্মানিত অধ্যাপককে ‘হুমকি’ দিয়ে শুধু একজন অধ্যাপক ফারুককেই অসম্মানিত করা হয়নি, বরং সমগ্র শিক্ষক সমাজকেই অসম্মানিত করা হয়েছে। এ ধরণের হুমকি গবেষকের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের পাশাপাশি ভবিষ্যতে গবেষণাকে নিরুৎসাহিত করতে পারে যা দেশের উন্নয়ন, অগ্রযাত্রার জন্য অশনি সংকেত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এহেন আচরণের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে। একটি গবেষণাকে ‘মিথ্যা’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যায়িত করে কিংবা গবেষককে ‘হুমকি’ দিয়ে সমস্যার সমাধান করা যাবে না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মনে করে, অধ্যাপক ফারুক দায়বদ্ধতা থেকে জনস্বার্থে যে গবেষণা করেছেন সেজন্য তাকে সাধুবাদ জানানো উচিত। একই সঙ্গে জনস্বার্থকে বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দুধে অ্যান্টিবায়োটিকসহ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে মানুষের মাথা লাগবে বলে একটি কুচক্রী মহল গুজব ছড়াচ্ছে। গুজবকে বিশ্বাসযোগ্য করতে এমনকি ব্রীজের গোড়ায় কাটা মাথা এডিট করে রেখে ভিডিওতে দেখিয়ে দিয়েছে মাথা কেটে নিয়ে নদীতে ফেলা হচ্ছে। গুজবের জেরে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে বেশ কয়েকজন নিরীহ মানুষ ইতোমধ্যে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসচেনতা বৃদ্ধির জন্য আনসারবাহিনীকে মাঠে নামিয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি দেশবিরোধী এসব পরিকিল্পিত গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য ও আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর প্রতি আন্তরিক অনুরোধ জানাচ্ছে যে, তাঁরা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে গুজবের বিরুদ্ধে ও আইন নিজের হাতে তুলে না নিতে জনসচেনতা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন এবং নির্যাতনের পর হত্যা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। লাখ লাখ শহীদের রক্তস্নাত আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি ধর্ষকদের অভয়ারণ্য হতে পারে না। ধর্ষণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার ত্রুটি দূর করতে ও ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত করতে সরকারকে আইনগত ও বিচারিক সংস্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি আহ্বান জানাচ্ছে।

কেবল বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় ধর্ষণের অভিশাপ থেকে মুক্ত হওয়া অসম্ভব বলে প্রতীয়মান হয়। এই ভয়াবহ সংকট থেকে উত্তরণের নিমিত্তে সরকার, রাজনৈতিক দলসমূহ, সামাজিক সংগঠনসমূহ ও দেশের আপামর জনসাধারণকে সম্মিলিত প্রচেষ্টা গ্রহণ ও ধর্ষণবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে।’

বাংলাধারা/এফএস/এমআর/টিএম

আরও পড়ুন