২০ মার্চ ২০২৬

নগরজুড়ে তারের জঞ্জাল; সরাবে কে? (ভিডিও)

রুবেল দাশ  »

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম যেন তারের জঞ্জালে পরিণত হয়েছে। উপরের দিকে তাকালেই দেখা মেলে শুধু থোকা থোকা তার। বৈদ্যুতিক লাইনের তারতো আছেই, তার সাথে যুক্ত হয়েছে ক্যাবল, ইন্টারনেট ও টেলিফোন লাইন। নগরের বিভিন্ন সড়ক ও গলিপথে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে জড়িয়ে থাকা এসব তারের জঞ্জাল সরাতে কার্যত কোনো উদ্যোগ নেই। এই জঞ্জালের কারণে আর্থিং, শর্ট সার্কিট হয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোতে তারের জঞ্জাল ঝুলছে। নিউমার্কেট, রেয়াজউদ্দীন বাজার, ওয়াসা, চকবাজার, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, ষোলশহর ২নম্বর গেট, টাইগারপাস, জামাল খান, আন্দরকিল্লাসহ পুরো নগরজুড়ে চিত্র একই।

বিভিন্ন সময়ে এসব তার ছিঁড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না। সেবা সংস্থাগুলোর দায়িত্বহীনতার কারণে নগরের ৭০ লাখ মানুষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এছাড়া এসব তারের জঞ্জালে নগরের সৌন্দর্যহানিও হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতার কারণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন নগরবাসী।

নগরীর ব্যাটারিগলির বাসিন্দা ফরহাদ চৌধুরী বলেন, ঢাকা ও সিলেটে ইতিমধ্যে মাটির নিচ দিয়ে সব ধরণের তারের সংযোগ নেয়া শুরু হয়েছে। যিনি সামনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হবেন তার কাছেও আমাদের অনুরোধ যেন চট্টগ্রামের সব ধরণের তার মাটির নিচ দিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শহরকে তারের জঞ্জাল থেকে মুক্ত করতে নগরে এলোপাতাড়ি থাকা বিদ্যুৎলাইন মাটির নিচে নেওয়ার কাজটি দ্রুত হলেই মঙ্গল। এই ভূগর্ভস্থ লাইন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি আশিক ইমরান বাংলাধারাকে বলেন, বৈদ্যুতিক তারের সাথে অন্যান্য তার একসাথে রাখা বিপদজনক ও ঝুঁকিপূর্ণ। পিডিবি ইতিমধ্যে বৈদ্যুতিক তার মাটির নিচ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সিটি করপোরেশনেরও উচিত অন্যান্য তারগুলো মাটির নিচ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা।

এদিকে, চট্টগ্রামের সব বিদ্যুৎ লাইন মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে গতবছর একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৫৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার কথা।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ৬০ বর্গমাইলের নগরে পিডিবির ৩ হাজার কিলোমিটার বিদ্যুৎ সংযোগ আছে। বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রোধে সম্প্রতি ঝুলে থাকা এসব তার সরানোর নির্দেশনা দেয় আদালত। পরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সব তারই মাটির নিচে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিতরণ) দক্ষিণাঞ্চল এর কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুতের খুঁটিতে ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট ক্যাবল অপারেটরদের তার টাঙিয়ে এ জঞ্জাল সৃষ্টি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরকে তারগুলো সরিয়ে নিতে বলা হলেও তারা তা মানছে না।

এসব লাইন দেখভাল করার দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ যে তাদের লাইন মাটির নিচ দিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছে সেটি জানেই না চসিক।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে চসিকের প্রধান নির্বাহী মোজাম্মেল হক বাংলাধারাকে বলেন, পিডিবি যদি প্রক্রিয়া শুরু করে থাকে তাহলে তাদের সাথে সমন্বয় করে আমরাও অন্যান্য তারগুলো সরানোর ব্যবস্থা করব।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, অগ্নি দুর্ঘটনার ৭৫ শতাংশই বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় নানা সমস্যার কারণে হয়ে থাকে। নগরে ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের বেশিরভাগই বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে ঘটেছে।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন