বাংলাধারা ডেস্ক »
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের নালিশ জানানো প্রিয়া সাহার এনজিও শারি’র বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তদন্ত করছে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো।
ব্যুরোর নিরীক্ষা বিভাগ বলছে, এনজিও ব্যুরোর অনুমোদন না নিয়েই স্থানীয়ভাবে অনুদান নিয়েছে ‘শারি’। এরকম আরো কিছু অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক (নিবন্ধন ও নিরীক্ষা) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন বলেন, যেকোনো অভিযোগ আসলে আমরা তদন্ত করবো এবং ২০১৬ সালে যে আইন আছে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। যদি প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া যাবে।
প্রিয়া সাহার সাবেক সহকর্মী ও প্রকল্প এলাকার লোকজন প্রিয়ার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন। এরইমধ্যে সংখ্যালঘুদের নিয়ে চলা একটি প্রকল্পে অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে তার ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।
২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রিয়া সাহার এনজিও ‘শারি’ দলিত সম্প্রদায় ও সংখ্যালঘুদের জন্য দুটি প্রকল্পে অনুদান খরচ করেছে ৬ কোটি ১৬ লাখ ৩১ হাজার ৪’শ ৮৪ টাকা।
এনজিওটির তথ্য বলছে, এই টাকার প্রায় অর্ধেকই খরচ করা হয়েছে পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায়। তবে সংখ্যালঘুদের জন্য যে এলাকায় সবচেয়ে বেশি কাজের কথা বলেছে এনজিওটি, সে এলাকায় এই এনজিও তাদের জন্য কিছুই করেনি।
সম্প্রতি প্রিয়া সাহার এনজিও থেকে অব্যহতি নেয়া সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, সংখ্যালঘুদের দেখিয়ে বিদেশী অনুদান আত্মসাৎ করেছেন প্রিয়া সাহা।
এনজিও থেকে অব্যহতি নেয়া সদস্য খালিদ আবু বলেন, তিনি কোনো কার্যক্রম করছেন না। শুধু চা-নাস্তা আর বাকিটা নাম মাত্র বিল করে টাকা আত্মসাতের জন্য তিনি এ কার্যক্রমটা করেছেন।
এনজিও থেকে অব্যহতি নেয়া সদস্য সাদুল্লাহ লিটন বলেন, দলিতদের নাম নিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে টাকা আনতেন। তাদের কর্মকাণ্ডের জন কিছু কর্মকর্তাসহ প্রিয়া সাহার দ্রুত তদন্ত হওয়া উচিত।
বর্তমানে প্রিয়া সাহার এনজিও ‘শারি’র’ মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের জন্য চলমান ৩ বছরের একটি প্রকল্পের প্রথম বছরের অর্থের ব্যয় ও পরিচালনা নিয়ে নানা অসংগতি পেয়েছে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতা বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মীয় নেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে কথা বলেন।
এতে বাংলাদেশি পরিচয়ে প্রিয়া সাহা উপস্থিত হয়ে ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান নিখোঁজ রয়েছেন। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই।
এরপর তিনি বলেন, এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি। এক পর্যায়ে ট্রাম্প নিজেই সহানুভূতিশীলতার স্বরূপ এই নারীর সঙ্গে হাত মেলান।
এ সময় ট্রাম্প প্রশ্ন করেন, ‘কারা জমি দখল করেছে, কারা বাড়ি-ঘর দখল করেছে?’ ট্রাম্পের প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়া সাহা বলেন, ‘তারা মুসলিম মৌলবাদি গ্রুপ এবং তারা সব সময় রাজনৈতিক আশ্রয় পায়। সব সময়ই পায়।’
বাংলাধারা/এফএস/এমআর/এসবি/আরইউ












