১২ মার্চ ২০২৬

নদীতে ধসে গেলো ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী পাকা সড়ক

সায়ীদ আলমগীর  »

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার সাথে পাহাড়ি জনপদ রামুর ঈদগড় ও বান্দরবানের বাইশারী ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী নদীর প্রবল পাহাড়ী ঢলের তোড়ে বুধবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০ টায় ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কের ঈদগড় ইউনিয়নের পানের ছড়া পয়েন্টে প্রায় ১০০ ফুট পাকা সড়ক ফাটলে ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়৷ এতে সড়কের উভয় পাশে পণ্যবাহি অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়েছে। ঈদগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভুট্টো এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঈদগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভুট্টো জানান, রামু উপজেলার পাহাড় বেষ্টিত ইউনিয়ন ঈদগড় ও বান্দরবানের নাইক্ষছড়ির পাহাড় ঘেরা ইউনিয়ন বাইশারীর কয়েক লাখ মানুষকে স্ব স্ব উপজেলা বা জেলা সদরে যেতে গেলে একমাত্র সড়ক যোগাযোগ ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়ক। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে সড়কটি সংযোগ সদ্য ঘোষিত ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাঁও বাস স্টেশনে। দীর্ঘদিন কাঁচা থাকার পর সড়কটি একদশক আগে পাকা হয়। এতে পাহাড়ি জনপদের লোকজনের যাতায়াত সহজতর হবার পাশাপাশি অনায়াসে বাজারজাত হয়েছে এতদঞ্চলে উৎপাদিত রাবার, তরিতরকারিসহ নানা কৃষি ও পাহাড়ি পণ্য। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে সড়কের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঈদগাঁও ফুলেশ্বরী নদীতে নামা ক্ষর স্রোতা ঢলের তোড়ে সড়কটি পানেরছরা পয়েন্টের প্রায় ১০০ ফুট ধসে গিয়ে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে উভয় পাশে আটকা পড়েছে যাত্রীবাহী ও পন্যবাহী অসংখ্য যানবাহন।

সবজি বিক্রেতা আবদুল কাইয়ূম জুয়েল জানান, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ঈদগড় বাইশারীর পাহাড়ী এলাকায় উৎপাদিত সবজি ঈদগাঁও বাজারে সরবরাহ করা যাচ্ছেনা। ভোরে বর্ষাকালীন সবজি নিতে ঈদগড় এসে মালভর্তি গাড়ি ধসে পড়া সড়ক এলাকায় আটকে আছি।

কলার আড়তদার হামিদ সিকদার বলেন, ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বিকল্প পথে বাইশারী-গর্জনিয়া-নাইক্ষ্যংছড়ি-রামুর পাহাড় বেয়ে কলা পরিবহন করতে হবে। এর ফলে কয়েকগুন বেশী পরিবহন খরচ পড়বে।

ঈদগড়ের হাসনাকাটার সমাজকর্মী নুরুল আবছার, ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের সিএনজি বেবিট্যাক্সি চালক আবুল কালাম ও পিন্টু বলেন, গত কয়েকবছর ধরে খরস্রোতা ঈদগাঁও নদীর মূল স্রোতধারা সড়কের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ভাঙ্গন প্রতিরোধ অথবা নদী শাসনের কোন উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে এত সুন্দর সড়কটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেল। এতে পাহাড়ি দু’ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ যোগাযোগ নিয়ে দূর্ভোগে পড়েছে।

বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, বাইশারী এখন রাবার জোন ও মিনি শিল্প এলাকা বলা চলে। নানা কাজের সুবাদে এখানে লোকজনের বাস বাড়ছে। চিকিৎসাসহ নানা প্রয়োজনে দেশের যেকোন প্রান্তে যেতে বাইশারী-ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কই একমাত্র ভরসা। সড়কটি মাঝখানে ধসে যাওয়া সকলকে বেকায়দায় ফেলেছে। এখন জরুরি রোগী নিয়ে যাওয়ারও পথ থাকলো না। দ্রুত বিকল্প পথ না হলে ভোগান্তির অন্ত থাকবে না।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা বলেন, এ সড়কটা পার্বত্য চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের আওতাধীন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছি। সবিশেষ দেখে যোগাযোগ ব্যবস্হা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন