মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক »
নগরীতে নানা ছুঁতোয় চলছে গাড়ি। দোকানপাট অর্ধেক খোলা। টহল পুলিশের গাড়ি দেখলেই বন্ধ করা হয়। বাজারেও ক্রেতার অভাব নেই। গার্মেন্টেস শ্রমিক বহনকারী গাড়িগুলো স্টিকার লাগিয়ে যাত্রী বহন করছে।
সিএমপির ঘোষণা অনুযায়ী মোটর সাইকেলে একাধিক ব্যক্তি চলাচল নিষিদ্ধ হলেও পুলিশসহ ততোধিক ব্যক্তি চলাচল করছে। রাইড শেয়ারিং না করলে অনেকের ঘরে ভাতও জুটবে না। এদিকে সোমবারও নগরীর প্রবেশদ্বার সিটিগেট ও কর্ণফুলী ব্রীজ এলাকা দিয়ে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জনশ্রোত দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম নগরীর প্রবেশদ্বার খ্যাত সিটিগেট এলাকায় জনস্রোত অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, সিলেট ও ঢাকাসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের লোকজনের প্রবেশ ও বহিরাগমন ঘটে। কিন্তু সিএমপি’র আকবরশাহ থানা এলাকার এই গুরুত্বপূর্ণ স্পটটি দিয়ে নগরীতে প্রবেশ করছে যাত্রীবাহী, প্রাইভেট গাড়ী থেকে শুরু করে দু’চাকার মোটরসাইকেলও। তবে বিভিন্ন বাহনে আসা যাত্রীরা মোস্তফা হাকিম কলেজের সামনেই নেমে যায়। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও যৌথবাহিনীর অভিযানের বেড়াজালে আটকা পড়ছে না। কারণ মোস্তফা হাকিম কলেজগেট সীতাকুন্ড থানার আওতায় পড়েছে। ওই থানার কেউই নেই। ফলে বিভিন্ন বাহনে আসারা অনায়াসে সিটিগেটের পশ্চিম প্রান্তে নেমে যাচ্ছে।

তবে সিটিগেট এলাকায় মহাসড়কের উভয়দিকে যৌথ বাহিনীর চেকপোস্ট থাকায় চলমান গাড়ীগুলো কৈফিয়তের মুখে পড়ছে। এরপরও নানা ছুঁতোয় শহরে প্রবেশ ও বাহিরে যাওয়ার চেষ্টা চলছে অনৈতিকভাবে। তবে শহর ছাড়তে গেলে একটু চাপাচাপির মুখে পড়তে হয়। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কেউ কেউ পার পেয়ে গেলেও বাকিরা উল্টোদিকে ঘুরতে হচ্ছে। বিভিন্ন যানবাহনে আসা হাজারো নারী, পুরুষ আর শিশুরা পায়ে হেঁটেই নগরীতে প্রবেশ করছে। তবে এদের কৈফিয়ত নেয়ার কোন সুযোগ নেই। কারণ প্রশাসন শুধু যান বাহনে থাকাদের নিয়ে ভাবছে। অথচ যারা বাহনে আসছে তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেই নগরীতে প্রবেশ করছে। এদের মধ্যেই করোনার প্রবনতা অনেক বেশী। এদের কারণেই করোনা উচ্চ মাত্রায় সংক্রমিত হতে পারে।
অপরদিকে, নগরীতে কোন দোকানপাট বা ব্যবসা কেন্দ্র বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। দোকানের দরজা বা সার্টার অর্ধ খোলা রেখে আয় রোজগারের চেষ্টা করছে দোকানীরা। কিন্তু পুলিশের টহল গাড়ী দেখলেই বন্ধ করে দেয়া হয় সার্টার। অন্যথায় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হচ্ছে মোবাইল টিমের কাছে। এদিকে কর্ণেলহাট ,পাহাড়তলী, কাট্টলী, অলংকার, আব্দুল আলী হাট, কর্ণফুলী বাজার, কাজিরদেউরী ও রিয়াজউদ্দিন বাজার কোথাও ফাঁকা নেই। অনেকটা ক্রেতার ভিড়ে বিক্রেতারা আতঙ্কে।
নগরীর প্রায় তিন শতাধিক চলমান গামের্ন্টেসে যেতে পরিবহন মালিক আর পুলিশের পক্ষ থেকে। স্টিকার লাগিয়ে পোশাক শ্রমিকদের চলাচলের নির্দেশনা দেয়া হলেও তা হচ্ছে ব্যতিক্রম। সকালের কাঁক ডাকা ভোরে পোশাক শ্রমিকদের বহনের পর আটশত গাড়ী নেমে যায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে থাকা যাত্রী বহনে। করোনা থেকে সুরক্ষার কোন বালাই নেই যাত্রী পরিবহনে।
সিএমপির পক্ষ থেকে মোটর সাইকেলের উপর বিধি নিষেধ আরোপ করলেও পুলিশও মানতে পারছে না। পুলিশসহ সকলেই দু’চাকার বাহনে তিন/চার জন্যও দেখা যাচ্ছে। রাইড শেয়ারিংয়ের নামে যারা রাস্তায় নেমেছে তারা পরিবার বাঁচানোর দোহাই দিচ্ছে। কারন করোনা কালীন সময়ে অনেকেই চাকুরী হারিয়ে এখন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে। পরিবারের টানেই এখন আইন অমান্য করতে হচ্ছে সবাইকে।
বাংলাধারা/এফএস/এআই












